ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই কোম্পানির ৪০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটঃ ০৬:১৫:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ৯৬৮ বার পঠিত

প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল পিএলসির আড়াইশ কোটি টাকা ও র‍্যানকন মোটরবাইকস লিমিটেডের দেড়শ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন করেছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বৃহস্পতিবার বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৯০১তম কমিশন সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়।

 

বিএসইসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের আড়াইশ কোটি টাকা অভিহিত মূল্যের বন্ডটি অরূপান্তরযোগ্য, হস্তান্তরযোগ্য ও পুরোপুরি অবসায়নযোগ্য। এটি আনসিকিউরড জিরো-কুপন বন্ড, যার ডিসকাউন্ট রেট ৯-১২ শতাংশ। এটি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও উচ্চ সম্পদশালী একক বিনিয়োগকারীদের কাছে ইস্যু করা হবে। এ বন্ডের প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০ লাখ টাকা। উল্লেখ্য, এ বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল আর্থিক খরচ কমিয়ে ব্যবসায় সম্প্রসারণে ব্যবহার করবে। বন্ডের ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এবং অ্যারেঞ্জার হিসেবে কাজ করছে এনডিবি ক্যাপিটাল লিমিটেড। বন্ডটি অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে তালিকাভুক্ত হবে।

 

২০১৩ সালে শেয়ারবাজার তালিকাভুক্ত হয় প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল। এর অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ১৬২ কোটি ৮৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৩৭১ কোটি ২১ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৬ কোটি ২৮ লাখ ৩৩ হাজার ৫৩২। এর মধ্যে ৬০ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। এছাড়া ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ বিদেশী বিনিয়োগকারী ও বাকি ২৪ দশমিক ১৪ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

 

চলতি ২০২৩-২৪ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩ টাকা ৯৮ পয়সা। গত ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৮ টাকা ১৬ পয়সা। সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৭ টাকা ৫১ পয়সা। আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪ টাকা ৬৭ পয়সা। গত ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৬ টাকা ১০ পয়সা।

 

প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘‌ডাবল এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘‌এসটি-১’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও গত ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে আলফা ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড।

 

অন্যদিকে র‍্যানকন মোটরবাইকসের দেড়শ কোটি টাকা মূল্যের বন্ডটি আনসিকিউরড, অরূপান্তরযোগ্য ও পুরোপুরি অবসায়নযোগ্য জিরো কুপন। এর অভিহিত মূল্য ২০৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা এবং ডিসকাউন্ট রেট ১২-১১ শতাংশ। এটি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও উচ্চ সম্পদশালী একক বিনিয়োগকারীদের কাছে ইস্যু করা হবে। এ বন্ডের প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য এক লাখ টাকা। উল্লেখ্য, এ বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করে কোম্পানিটি বিদ্যমান ব্যাংক ঋণের কিছু অংশ পুনঃঅর্থায়ন করার পরিকল্পনা করছে। বন্ডের ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে কমিউনিটি ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং অ্যারেঞ্জার হিসেবে কাজ করছে সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্সেস লিমিটেড। এছাড়া বন্ডটি অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে তালিকাভুক্ত হবে।

 

মোটরসাইকেলের জাপানি ব্র্যান্ড সুজুকির উৎপাদক ও পরিবেশক হলো র‌্যানকন মোটরবাইকস। সুজুকি ও র‌্যানকন যৌথভাবে গাজীপুরে কারখানা করেছে। কোম্পানিটির ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, র‌্যানকন মোটরবাইকস ২০১২ সালে যাত্রা শুরু করে। তখন তাদের কর্মী ছিল মাত্র তিনজন। সুজুকির মোটরসাইকেলের প্রথম চালান দেশে আসার আগেই অগ্রিম বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। ২০১৮ সালে ৩৬০ জনের একটি টিম নিয়ে গাজীপুরে নিজস্ব কারখানায় সুজুকি মোটরসাইকেল উৎপাদন শুরু হয়।

অর্থআদালতডটকম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার হতে বিরত থাকুন।

দুই কোম্পানির ৪০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন

আপডেটঃ ০৬:১৫:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল পিএলসির আড়াইশ কোটি টাকা ও র‍্যানকন মোটরবাইকস লিমিটেডের দেড়শ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন করেছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বৃহস্পতিবার বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৯০১তম কমিশন সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়।

 

বিএসইসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের আড়াইশ কোটি টাকা অভিহিত মূল্যের বন্ডটি অরূপান্তরযোগ্য, হস্তান্তরযোগ্য ও পুরোপুরি অবসায়নযোগ্য। এটি আনসিকিউরড জিরো-কুপন বন্ড, যার ডিসকাউন্ট রেট ৯-১২ শতাংশ। এটি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও উচ্চ সম্পদশালী একক বিনিয়োগকারীদের কাছে ইস্যু করা হবে। এ বন্ডের প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০ লাখ টাকা। উল্লেখ্য, এ বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল আর্থিক খরচ কমিয়ে ব্যবসায় সম্প্রসারণে ব্যবহার করবে। বন্ডের ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এবং অ্যারেঞ্জার হিসেবে কাজ করছে এনডিবি ক্যাপিটাল লিমিটেড। বন্ডটি অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে তালিকাভুক্ত হবে।

 

২০১৩ সালে শেয়ারবাজার তালিকাভুক্ত হয় প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল। এর অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ১৬২ কোটি ৮৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৩৭১ কোটি ২১ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৬ কোটি ২৮ লাখ ৩৩ হাজার ৫৩২। এর মধ্যে ৬০ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। এছাড়া ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ বিদেশী বিনিয়োগকারী ও বাকি ২৪ দশমিক ১৪ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

 

চলতি ২০২৩-২৪ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩ টাকা ৯৮ পয়সা। গত ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৮ টাকা ১৬ পয়সা। সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৭ টাকা ৫১ পয়সা। আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪ টাকা ৬৭ পয়সা। গত ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৬ টাকা ১০ পয়সা।

 

প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘‌ডাবল এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘‌এসটি-১’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও গত ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে আলফা ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড।

 

অন্যদিকে র‍্যানকন মোটরবাইকসের দেড়শ কোটি টাকা মূল্যের বন্ডটি আনসিকিউরড, অরূপান্তরযোগ্য ও পুরোপুরি অবসায়নযোগ্য জিরো কুপন। এর অভিহিত মূল্য ২০৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা এবং ডিসকাউন্ট রেট ১২-১১ শতাংশ। এটি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও উচ্চ সম্পদশালী একক বিনিয়োগকারীদের কাছে ইস্যু করা হবে। এ বন্ডের প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য এক লাখ টাকা। উল্লেখ্য, এ বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করে কোম্পানিটি বিদ্যমান ব্যাংক ঋণের কিছু অংশ পুনঃঅর্থায়ন করার পরিকল্পনা করছে। বন্ডের ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে কমিউনিটি ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং অ্যারেঞ্জার হিসেবে কাজ করছে সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্সেস লিমিটেড। এছাড়া বন্ডটি অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে তালিকাভুক্ত হবে।

 

মোটরসাইকেলের জাপানি ব্র্যান্ড সুজুকির উৎপাদক ও পরিবেশক হলো র‌্যানকন মোটরবাইকস। সুজুকি ও র‌্যানকন যৌথভাবে গাজীপুরে কারখানা করেছে। কোম্পানিটির ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, র‌্যানকন মোটরবাইকস ২০১২ সালে যাত্রা শুরু করে। তখন তাদের কর্মী ছিল মাত্র তিনজন। সুজুকির মোটরসাইকেলের প্রথম চালান দেশে আসার আগেই অগ্রিম বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। ২০১৮ সালে ৩৬০ জনের একটি টিম নিয়ে গাজীপুরে নিজস্ব কারখানায় সুজুকি মোটরসাইকেল উৎপাদন শুরু হয়।