ঢাকা , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘স্যার ওরা জামিন পেলে আমাকে মেরে ফেলবে’, হাইকোর্টে বৃদ্ধ মায়ের আর্তনাদ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটঃ ০১:৪৬:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ৯৮৫ বার পঠিত

রাজধানীর কাফরুলের এক বৃদ্ধা মাকে মারধরের অভিযোগে করা মামলায় দুই সন্তানকে আগাম জামিন দেননি হাইকোর্ট। মায়ের ওপর নির্যাতনের জন্য ভৎসনা করেন বিচারক।

 

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন ছেলে হামিদুল হক সোহেল। আর মেয়ে তাসলিমা আক্তার সুমি কাজ করছেন নির্বাচন কমিশনে। তারা দুজনই তাদের মাকে একাধিকবার মেরেছেন। ঘর থেকে বের করেও দিয়েছেন।

 

রাজধানীর কাফরুলের উত্তর ইব্রাহিমপুরের একটি জমি নিয়ে মূলত মা ও সন্তানদের মধ্যে দ্বন্দ্ব। ওই বাড়িটি তাদের বাবা মারা যাওয়ার পর তারা নিতে চান। যদিও মায়ের ভরণপোষণের কোনো দায়িত্ব ছেলেমেয়ে নেবে না। এই সম্পত্তি দখল নিয়েই মায়ের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ায় দুই সন্তান ও মেয়ের জামাই।

 

সন্তানদের বিরুদ্ধে মারধর ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেন খুরশিদা খাতুন। ছেলে আর মেয়ে আগাম জামিন আবেদন করেছেন হাইকোর্টে। তাদের জামিন ঠেকাতে মাও এসে আদালতে হাজির।রোববার বিচারপতি রেজাউল হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে তাদের জামিন শুনানি হয়। শুনানিতে বিচারপতির সামনে দাঁড়িয়ে আকুতি জানান, তাদের সন্তানদের জামিন না দিতে।

 

তিনি বলেন, ‘স্যার আমার সন্তানদের জামিন দিয়েন না, স্যার ওরা আমাকে মারধর করে, স্যার ওরা আমাকে মেরে ফেলবে, ওদের জামিন দিয়েন না।’

 

ভুক্তভোগী নারী খুরশিদা খাতুন বলেন, ‘আমার ৫ লাখ টাকার মতো ওরা নিয়ে গেছে। আমার মুখেও মারছে। আমি কোথাও যাই না, আমার পিছে লোক রেখে দিছে।’বয়সের ভারে ঠিকমতো হাঁটতে পারছেন না খুরশিদা খাতুন। সন্তানদের মারধরের ভয় তার চোখেমুখে। সন্তানদের নির্যাতনের ভয় তাড়া করছে তাকে, তাই জামিন ঠেকাতে কোর্টের বারান্দায় ঘুরছেন এই নারী।

 

ভুক্তভোগী নারীর আইনজীবী জসিম উদ্দিন বলেন, বিজ্ঞ আদালত বলেছেন যে, আজকে যদি এদের জামিন দেওয়া হয়, তা হলে সমাজে একটা খারাপ মেসেজ যাবে এবং মায়েদের প্রতি নির্যাতন বেড়ে যাবে। এই যে মাকে মেরেছে তার জন্য মহামান্য আদালত সন্তানদের প্রতি ভর্ৎসনা দিয়েছে এবং তাদের জামিন আবেদন নামন্জুর করেছেন।

অর্থআদালতডটকম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার হতে বিরত থাকুন।

‘স্যার ওরা জামিন পেলে আমাকে মেরে ফেলবে’, হাইকোর্টে বৃদ্ধ মায়ের আর্তনাদ

আপডেটঃ ০১:৪৬:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

রাজধানীর কাফরুলের এক বৃদ্ধা মাকে মারধরের অভিযোগে করা মামলায় দুই সন্তানকে আগাম জামিন দেননি হাইকোর্ট। মায়ের ওপর নির্যাতনের জন্য ভৎসনা করেন বিচারক।

 

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন ছেলে হামিদুল হক সোহেল। আর মেয়ে তাসলিমা আক্তার সুমি কাজ করছেন নির্বাচন কমিশনে। তারা দুজনই তাদের মাকে একাধিকবার মেরেছেন। ঘর থেকে বের করেও দিয়েছেন।

 

রাজধানীর কাফরুলের উত্তর ইব্রাহিমপুরের একটি জমি নিয়ে মূলত মা ও সন্তানদের মধ্যে দ্বন্দ্ব। ওই বাড়িটি তাদের বাবা মারা যাওয়ার পর তারা নিতে চান। যদিও মায়ের ভরণপোষণের কোনো দায়িত্ব ছেলেমেয়ে নেবে না। এই সম্পত্তি দখল নিয়েই মায়ের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ায় দুই সন্তান ও মেয়ের জামাই।

 

সন্তানদের বিরুদ্ধে মারধর ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেন খুরশিদা খাতুন। ছেলে আর মেয়ে আগাম জামিন আবেদন করেছেন হাইকোর্টে। তাদের জামিন ঠেকাতে মাও এসে আদালতে হাজির।রোববার বিচারপতি রেজাউল হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে তাদের জামিন শুনানি হয়। শুনানিতে বিচারপতির সামনে দাঁড়িয়ে আকুতি জানান, তাদের সন্তানদের জামিন না দিতে।

 

তিনি বলেন, ‘স্যার আমার সন্তানদের জামিন দিয়েন না, স্যার ওরা আমাকে মারধর করে, স্যার ওরা আমাকে মেরে ফেলবে, ওদের জামিন দিয়েন না।’

 

ভুক্তভোগী নারী খুরশিদা খাতুন বলেন, ‘আমার ৫ লাখ টাকার মতো ওরা নিয়ে গেছে। আমার মুখেও মারছে। আমি কোথাও যাই না, আমার পিছে লোক রেখে দিছে।’বয়সের ভারে ঠিকমতো হাঁটতে পারছেন না খুরশিদা খাতুন। সন্তানদের মারধরের ভয় তার চোখেমুখে। সন্তানদের নির্যাতনের ভয় তাড়া করছে তাকে, তাই জামিন ঠেকাতে কোর্টের বারান্দায় ঘুরছেন এই নারী।

 

ভুক্তভোগী নারীর আইনজীবী জসিম উদ্দিন বলেন, বিজ্ঞ আদালত বলেছেন যে, আজকে যদি এদের জামিন দেওয়া হয়, তা হলে সমাজে একটা খারাপ মেসেজ যাবে এবং মায়েদের প্রতি নির্যাতন বেড়ে যাবে। এই যে মাকে মেরেছে তার জন্য মহামান্য আদালত সন্তানদের প্রতি ভর্ৎসনা দিয়েছে এবং তাদের জামিন আবেদন নামন্জুর করেছেন।