জেনারেল আজিজের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আগেই জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র
- আপডেটঃ ০৬:০৬:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪
- / ৮৯৬ বার পঠিত
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জনসমক্ষে আনার আগে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসকে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ভিসানীতি নয়, অন্য অ্যাক্টের অধীন তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২১ মে) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি জানান, ভিসানীতি আওতায় নয়, অন্য আইনে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালে ডিসেম্বরে র্যাবের এবং তার ৭ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যা দুদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তৈরি করে টানাপোড়েন।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে দেশটি ঘোষণা করে ভিসানীতি। সেখানে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অযাচিত হস্তক্ষেপ বা প্রভাব বিস্তারের করলে ভিসা নীতি প্রয়োগের ঘোষণা দেয়া হয়।র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার সোমবার রাতে দুর্নীতিতে সম্পৃক্ততার কারণে সাবেক জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ এবং তার পরিবারের যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা।
এ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, বিবৃতি প্রকাশের আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মিশনকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। ‘ভিসানীতির আওতায় নয়, অন্য আইনে জেনারেল আজিজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।’ দুর্নীতি ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে ঢাকা বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞাকে পাশ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে চায়, ঢাকাও তাই চাইছে।’ এর আগে সোমবার (২০ মে) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে, দুর্নীতির অভিযোগে বাংলাদেশের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানায় যুক্তরাষ্ট্র। আজিজ আহমেদ অবসরে যাওয়ার প্রায় ৩ বছর পর এ নিষেধাজ্ঞা এলো।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিবৃতিতে বলা হয়, তার (আজিজ আহমেদ) কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের অবমূল্যায়ন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়ার ওপর জনগণের আস্থা কমেছে। এছাড়া আজিজ আহমেদ তার ভাইকে বাংলাদেশে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহিতা এড়াতে সহযোগিতা করেন।
‘এ সময় তিনি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন বলেও জানায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এছাড়া অন্যায্যভাবে সামরিক খাতে কাজ পাওয়া নিশ্চিত করতে তিনি তার ভাইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। তিনি নিজের স্বার্থের জন্য সরকারি নিয়োগের বিনিময়ে ঘুষ নিয়েছেন।’
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলারের ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও আইনের শাসন শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার পুনরায় নিশ্চিত করা হলো। সরকারি সেবা আরও স্বচ্ছ ও নাগরিকদের সেবা লাভের সুযোগ তৈরি, ব্যবসা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মুদ্রা পাচার ও অন্যান্য অর্থনৈতিক অপরাধের অনুসন্ধান ও বিচার নিশ্চিতে সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী প্রচেষ্টায় সহায়তা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
সাবেক জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদকে ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট, ফরেন অপারেশন অ্যান্ড রিলেটেড প্রোগ্রামস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস অ্যাক্টের ৭০৩১ (সি) ধারার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর। এই পদক্ষেপের ফলে আজিজ আহমেদ এবং তার পরিবারের সদস্যরা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন বলেও জানায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২৫ জুন বাংলাদেশে চিফ অফ আর্মি স্টাফ নিযুক্ত হন আজিজ আহমেদ। তিন বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০২১ সালের ২৪ জুন অবসরে যান তিনি। এর আগে তিনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।










