সিলেট সিটিতে চার হাজার পরিবার নতুন করে বন্যা আক্রান্ত
- আপডেটঃ ০৫:০৬:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ জুন ২০২৪
- / ৯৩৫ বার পঠিত
সিলেটের সীমান্তবর্তী কয়েকটি উপজেলায় পানি কমলেও শুক্রবার নগরীতে প্রবেশ করেছে সুরমার পানি। ইতোমধ্যে নগরীর চার হাজার পরিবার বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। নগরীর বন্যা কবলিতদের জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে খোলা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র।
শুক্রবার (৩১ মে) দুপুর থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র, কাউন্সিলর ও কর্মকর্তারা। নগরীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কিশোরী মোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও পার্শ্ববর্তী একটি পাঁচতলা খালি বিল্ডিংয়ে একই ওয়ার্ডের মতিন মিয়ার কলোনির ৪০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়াও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হচ্ছে।
সিলেট শহর এলাকায় সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১০.৮৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে নদীর পানি না নামায় সিলেট নগরীর উপশহর, তালতলা, মাছিমপুর, ছড়ারপার, উপশহর, তেরোরতন, তালতলা, যতরপুরসহ বেশি কিছু এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে।
শুধু মাত্র সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় নতুন করে বন্যা আক্রান্ত হয়েছে চার হাজার পরিবার। বিভিন্ন এলাকায় বসত ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় চরম বিপাকে সাধারণ মানুষ। এ দিকে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারা নদীর বাঁধ উপচে পানি ঢোকার কারণে উপজেলার ৯ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরভার ১১০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে উপজেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক। পুরো উপজেলাতে খোলা হয়েছে ৫৫ টি আশ্রয় কেন্দ্র।
এ দিকে শনিবার(০১ জুন) সকালে সিলেট নগরীরর উপশহরের বন্যা কবলিত এলাকা তেরোরতন পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন । বন্যা দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন তিনি । তিনি বলেন, যথা সময়ে সুরমা নদী খনন না হওয়ার কারনে এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তবে সরকার সতকর্তার সাথে বন্যা মোকাবিলা করছে।
স্থানীয় এই সংসদ সদস্য সাংবাদিকদের বলেন, ২০২২ এ বড় বন্যা হলো। নদী খনননের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। কাজ শুরু হলো। অল্প কিছু দিন পরে নানা অজুহাতে বন্ধ হয়ে গেলে। এখনও শুরু হয়নি। কাজটা শেষ হলে পানি দ্রুত সরে যেত। শহর রক্ষা পেতো।
জেলা প্রশাসন জানায়, সিলেট জেলার আটটি উপজেলা ও দুটি পৌরসভাসহ ও মোট ৬৮ টি ইউনিয়নে বন্যা আক্রান্ত হয়েছেন ছয় লাখ ৯৭ হাজার ৩৩ জন। আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে ৫৫০ টি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, কানাইঘাটে এবং জকিগঞ্জে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে যার কারনে সিলেট শহরের সুরমা নদীর পানি বাড়ছে। তবে ভারতে চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি কমেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
সিলেটের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দিপক রঞ্জন দাশ বলেন, কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানি প্রায় ৯০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। কুশিয়ারা নদরি অমলশীদ পয়েন্টে প্রায় দুই মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যে কারণে সিলেট শহরে বিপৎসীমার প্রায় ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যা কবলিত এলাকাগুলোয় পর্যাপ্ত খাবার আর বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ঠিক রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন বন্যা দুর্গতদের।










