ঢাকা , বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ কৃষির ভ্যালু চেইন তৈরিতে মনোযোগের

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটঃ ০৬:৩২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ জুন ২০২৪
  • / ৯৫২ বার পঠিত

আগামী অর্থবছরের বাজেটে কৃষি খাতের ভর্তুকি হতে পারে ২৫ হাজার কোটি টাকা। টাকার অঙ্কে গেলো বছরের মতো হলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, মূল্যস্ফীতির হিসাবে এটি কমেছে। ধারাবাহিকভাবে কমছে বাজেটের তুলনায় বরাদ্দও। কেবল উৎপাদন বৃদ্ধিতে বাড়তি মনোযোগ সরকারের অদূরদর্শিত উল্লেখ করে খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন মনোযোগ দিতে হবে কৃষি খাতের ভ্যালু চেইন তৈরিতে।

 

ধান-সবজীসহ কৃষির উৎপাদন যতই বাড়ছে, ততই কমছে বাজেটে কৃষিখাতে বরাদ্দের পরিমাণ। ২০১১-১২ অর্থবছরেও কৃষিখাতে বরাদ্দ ছিলো মোট বাজেটের ১০ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে যা ছিলো ১১ শতাংশের ঘরে। অথচ চলতি ২০২৩-২৪ কৃষিখাতে বরাদ্দের পরিমাণ মোট বাজেটের মাত ৫ দশমিক ৭ শতাংশ।

 

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যে হারে আমাদের মোট বাজেট বৃদ্ধি পায়, সে হারে কৃষি বাজেট বাড়ছে না। গত বাজেট বৃদ্ধি পেয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। কিন্তু কৃষি বাজেট বৃদ্ধি পেয়েছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা যদি মূল্যস্ফীতিকে আমলে নেই তাহলে দেখা যাবে, এ কৃষি বাজেট দারুণভাবে কমে গেছে। দেশে জনপ্রতি কৃষি জমির পরিমাণ মাত্র ১০ শতাংশ, যা আবার কমছে ০.২ শতাংশ হারে অকৃষিখাতে জমির ব্যবহারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভর্তুকির বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষির মূল চালিকাশক্তি বেসরকারি খাততে চাঙ্গা রাখার উদ্যোগ জরুরি ।

 

এ কৃষি অর্থনীতিবিদ বলেন, ভর্তুকি হ্রাস করা সম্ভব নয়। আমাদের ভর্তুকি বাড়াতে হবে। এবং ভর্তুকি বাড়িয়ে উপকরণের মূল্য হ্রাস করতে হবে। পার ইউনিট উৎপাদন খরচ হ্রাস করতে হবে। যাতে করে কৃষক কৃষিখাতে উৎসাহ পায়।

 

বেসরকারি উদ্যোক্তারা বলছেন শুধু উৎপাদনে মনোযোগ না দিয়ে কৃষিতে টেকসই উন্নয়নের দিকে নজর দিতে হবে। সরকারের সাথে বেসরকারি উদ্যোগে বাড়াতে হবে গবেষণা।

 

এসিআই এগ্রোবিজনেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এফ এইচ আনসারী বলেন, এই বাজেট দিয়ে খুব বেশিদিন আমরা ভালো কিছু করতে পারবো না। আমাদের পুরো ভ্যালুচেইন দাঁড় করাতে হবে। বেডিং থেকে শুরু করে উৎপাদন, পোস্ট হারভেস্ট, পুরো চেইনটাকে দাঁড় করাতে হবে। আমরা ইদানীং দেখছি কখনো খাদ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে, কখনো কমে যাচ্ছে। তার পেছনে কারণ হলো, হঠাৎ করে কোথায় এই চেইন বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে।

 

জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় কৃষি ও প্রাণীসম্পদ খাতে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে থোক বরাদ্দ রাখার তাগিদ বিশ্লেষকদের।

অর্থআদালতডটকম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার হতে বিরত থাকুন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ কৃষির ভ্যালু চেইন তৈরিতে মনোযোগের

আপডেটঃ ০৬:৩২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ জুন ২০২৪

আগামী অর্থবছরের বাজেটে কৃষি খাতের ভর্তুকি হতে পারে ২৫ হাজার কোটি টাকা। টাকার অঙ্কে গেলো বছরের মতো হলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, মূল্যস্ফীতির হিসাবে এটি কমেছে। ধারাবাহিকভাবে কমছে বাজেটের তুলনায় বরাদ্দও। কেবল উৎপাদন বৃদ্ধিতে বাড়তি মনোযোগ সরকারের অদূরদর্শিত উল্লেখ করে খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন মনোযোগ দিতে হবে কৃষি খাতের ভ্যালু চেইন তৈরিতে।

 

ধান-সবজীসহ কৃষির উৎপাদন যতই বাড়ছে, ততই কমছে বাজেটে কৃষিখাতে বরাদ্দের পরিমাণ। ২০১১-১২ অর্থবছরেও কৃষিখাতে বরাদ্দ ছিলো মোট বাজেটের ১০ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে যা ছিলো ১১ শতাংশের ঘরে। অথচ চলতি ২০২৩-২৪ কৃষিখাতে বরাদ্দের পরিমাণ মোট বাজেটের মাত ৫ দশমিক ৭ শতাংশ।

 

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যে হারে আমাদের মোট বাজেট বৃদ্ধি পায়, সে হারে কৃষি বাজেট বাড়ছে না। গত বাজেট বৃদ্ধি পেয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। কিন্তু কৃষি বাজেট বৃদ্ধি পেয়েছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা যদি মূল্যস্ফীতিকে আমলে নেই তাহলে দেখা যাবে, এ কৃষি বাজেট দারুণভাবে কমে গেছে। দেশে জনপ্রতি কৃষি জমির পরিমাণ মাত্র ১০ শতাংশ, যা আবার কমছে ০.২ শতাংশ হারে অকৃষিখাতে জমির ব্যবহারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভর্তুকির বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষির মূল চালিকাশক্তি বেসরকারি খাততে চাঙ্গা রাখার উদ্যোগ জরুরি ।

 

এ কৃষি অর্থনীতিবিদ বলেন, ভর্তুকি হ্রাস করা সম্ভব নয়। আমাদের ভর্তুকি বাড়াতে হবে। এবং ভর্তুকি বাড়িয়ে উপকরণের মূল্য হ্রাস করতে হবে। পার ইউনিট উৎপাদন খরচ হ্রাস করতে হবে। যাতে করে কৃষক কৃষিখাতে উৎসাহ পায়।

 

বেসরকারি উদ্যোক্তারা বলছেন শুধু উৎপাদনে মনোযোগ না দিয়ে কৃষিতে টেকসই উন্নয়নের দিকে নজর দিতে হবে। সরকারের সাথে বেসরকারি উদ্যোগে বাড়াতে হবে গবেষণা।

 

এসিআই এগ্রোবিজনেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এফ এইচ আনসারী বলেন, এই বাজেট দিয়ে খুব বেশিদিন আমরা ভালো কিছু করতে পারবো না। আমাদের পুরো ভ্যালুচেইন দাঁড় করাতে হবে। বেডিং থেকে শুরু করে উৎপাদন, পোস্ট হারভেস্ট, পুরো চেইনটাকে দাঁড় করাতে হবে। আমরা ইদানীং দেখছি কখনো খাদ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে, কখনো কমে যাচ্ছে। তার পেছনে কারণ হলো, হঠাৎ করে কোথায় এই চেইন বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে।

 

জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় কৃষি ও প্রাণীসম্পদ খাতে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে থোক বরাদ্দ রাখার তাগিদ বিশ্লেষকদের।