ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইলে ১১৪ গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটঃ ০১:০২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪
  • / ৮৩৯ বার পঠিত

টাঙ্গাইলের যমুনা, ধলেশ্বরী ও ঝিনাই নদীর পানি ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে এখনও এসব নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল গাবসারা, অর্জুনা, গোবিন্দাসী ও নিকরাইল ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গেল ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ৯ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, ঝিনাই নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৮১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ও ধলেশ্বরী নদীর পানি ৪ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

 

আজ বুধবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড।

 

বন্যায় জেলার গোপালপুর, ভূঞাপুর, কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর, দেলদুয়ার, নাগরপুর ও বাসাইল উপজেলার ১১৪টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বাঁধ উপচে ও সড়ক ভেঙে লোকালয়ে প্রবেশ করছে পানি। ফলে প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। বন্যা কবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির, ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। চরাঞ্চলের অনেকে নৌকায় বা স্বজনদের বাড়ি ও উঁচু জায়গাতে আশ্রয় নিয়েছেন।

 

এ দিকে বন্যার কারণে গোচারণ ভূমি তলিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে গো খাদ্যের সংকট। চড়া দামে কিনতে হচ্ছে গোখাদ্য। পানি উঠায় জেলার ৩৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৩০ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। পানির নিচে চলে গেছে সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমির পাট, আউস ধান, তিল ও সবজি। ভেসে গেছে শতাধিক পুকুরের মাছ।

 

ভূঞাপুর উপজেলার কষ্টাপাড়া গ্রামের মাসুদ বলেন, ‘আজ ৫ দিন ধরে পানিবন্দি। ঘর থেকে বের হলেই পানি। খাওয়া-দাওয়া খুব কষ্ট। রাতে সাপ বিচ্ছুর ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে। কাজকর্মও ঠিকমতো করতে পারছিনা।’

 

জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম বলেন, ‘টাঙ্গাইলে পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে। ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত উপজেলায় দুই হাজার করে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও ২০ টন জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আরও ৮শ’ টন চাল ও ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। পর্যায়ক্রমে বন্যাকবলিতদের মাঝে তা বিতরণ করা হবে।’

অর্থআদালতডটকম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার হতে বিরত থাকুন।

টাঙ্গাইলে ১১৪ গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি

আপডেটঃ ০১:০২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪

টাঙ্গাইলের যমুনা, ধলেশ্বরী ও ঝিনাই নদীর পানি ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে এখনও এসব নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল গাবসারা, অর্জুনা, গোবিন্দাসী ও নিকরাইল ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গেল ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ৯ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, ঝিনাই নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৮১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ও ধলেশ্বরী নদীর পানি ৪ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

 

আজ বুধবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড।

 

বন্যায় জেলার গোপালপুর, ভূঞাপুর, কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর, দেলদুয়ার, নাগরপুর ও বাসাইল উপজেলার ১১৪টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বাঁধ উপচে ও সড়ক ভেঙে লোকালয়ে প্রবেশ করছে পানি। ফলে প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। বন্যা কবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির, ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। চরাঞ্চলের অনেকে নৌকায় বা স্বজনদের বাড়ি ও উঁচু জায়গাতে আশ্রয় নিয়েছেন।

 

এ দিকে বন্যার কারণে গোচারণ ভূমি তলিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে গো খাদ্যের সংকট। চড়া দামে কিনতে হচ্ছে গোখাদ্য। পানি উঠায় জেলার ৩৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৩০ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। পানির নিচে চলে গেছে সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমির পাট, আউস ধান, তিল ও সবজি। ভেসে গেছে শতাধিক পুকুরের মাছ।

 

ভূঞাপুর উপজেলার কষ্টাপাড়া গ্রামের মাসুদ বলেন, ‘আজ ৫ দিন ধরে পানিবন্দি। ঘর থেকে বের হলেই পানি। খাওয়া-দাওয়া খুব কষ্ট। রাতে সাপ বিচ্ছুর ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে। কাজকর্মও ঠিকমতো করতে পারছিনা।’

 

জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম বলেন, ‘টাঙ্গাইলে পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে। ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত উপজেলায় দুই হাজার করে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও ২০ টন জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আরও ৮শ’ টন চাল ও ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। পর্যায়ক্রমে বন্যাকবলিতদের মাঝে তা বিতরণ করা হবে।’