ঢাকা , শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দীপু মনি ও জয়ের বিরুদ্ধে রিমান্ড চাইবে পুলিশ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটঃ ১২:১৯:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০২৪
  • / ৯৬২ বার পঠিত

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং সাবেক ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়কে আদালতে তোলা হবে আজ।

 

আজ মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) তাদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলেও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সূত্রে থেকে জানা গেছে।

 

গতকাল সোমবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর আলাদা আলাদা স্থান থেকে তাদের গ্রেফতার করে রাতেই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে নেয়া হয়।

 

ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তোফাজ্জল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় দীপু মনি এবং আরিফ খান জয়কে ঢাকা মহানগর আদালতে সোপর্দ করা হবে। দুজনেরই ডিবি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিন করে রিমান্ড চাওয়া হবে।

 

সোমবার (১৯ আগস্ট) রাতে সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে রাজধানীর গুলশানের বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে আটক করে ডিবি গুলশান বিভাগের একটি দল। তার বিরুদ্ধে চাঁদপুর ও ঢাকায় মামলা হয়েছে। রাতেই তাকে মোহাম্মদপুর থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

 

গত ১৮ জুলাই চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায়, দীপু মনি ও তার বড় ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপুকে আসামি করা হয়।

 

গতকাল সোমবার দীপু মনি, তার স্বামী তৌফীক নাওয়াজ এবং বড় ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপুর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়ে অ্যাকাউন্ট জব্দ করতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

 

ডা. দীপু মনি চাঁদপুর-৩ আসন থেকে টানা চার বার আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি হন। এরমধ্যে ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে সেই সরকারের মন্ত্রিসভায় দেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন ডা. দীপু মনি। দশম সংসদ নির্বাচনের পর তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর তিনি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পান। সবশেষ দ্বাদশ সংসদে আওয়ামী লীগ সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী ছিলেন তিনি।

 

সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়কে সোমবার রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাকেও মোহাম্মদপুর থানায় করা একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

 

আরিফ খান জয় ২০১৪ সালে নেত্রকোনা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক এ অধিনায়ক যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। চার বছর এ দায়িত্ব পালনের পর ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি আর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি। সবশেষ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করে হেরে যান আরিফ খান জয়।

 

প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর আত্মগোপনে চলে যান আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারা। আত্মগোপনের তালিকায় রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বরতরা। তাদের কেউ কেউ গ্রেফতার হচ্ছেন।

অর্থআদালতডটকম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার হতে বিরত থাকুন।

দীপু মনি ও জয়ের বিরুদ্ধে রিমান্ড চাইবে পুলিশ

আপডেটঃ ১২:১৯:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০২৪

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং সাবেক ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়কে আদালতে তোলা হবে আজ।

 

আজ মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) তাদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলেও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সূত্রে থেকে জানা গেছে।

 

গতকাল সোমবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর আলাদা আলাদা স্থান থেকে তাদের গ্রেফতার করে রাতেই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে নেয়া হয়।

 

ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তোফাজ্জল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় দীপু মনি এবং আরিফ খান জয়কে ঢাকা মহানগর আদালতে সোপর্দ করা হবে। দুজনেরই ডিবি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিন করে রিমান্ড চাওয়া হবে।

 

সোমবার (১৯ আগস্ট) রাতে সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে রাজধানীর গুলশানের বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে আটক করে ডিবি গুলশান বিভাগের একটি দল। তার বিরুদ্ধে চাঁদপুর ও ঢাকায় মামলা হয়েছে। রাতেই তাকে মোহাম্মদপুর থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

 

গত ১৮ জুলাই চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায়, দীপু মনি ও তার বড় ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপুকে আসামি করা হয়।

 

গতকাল সোমবার দীপু মনি, তার স্বামী তৌফীক নাওয়াজ এবং বড় ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপুর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়ে অ্যাকাউন্ট জব্দ করতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

 

ডা. দীপু মনি চাঁদপুর-৩ আসন থেকে টানা চার বার আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি হন। এরমধ্যে ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে সেই সরকারের মন্ত্রিসভায় দেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন ডা. দীপু মনি। দশম সংসদ নির্বাচনের পর তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর তিনি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পান। সবশেষ দ্বাদশ সংসদে আওয়ামী লীগ সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী ছিলেন তিনি।

 

সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়কে সোমবার রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাকেও মোহাম্মদপুর থানায় করা একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

 

আরিফ খান জয় ২০১৪ সালে নেত্রকোনা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক এ অধিনায়ক যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। চার বছর এ দায়িত্ব পালনের পর ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি আর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি। সবশেষ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করে হেরে যান আরিফ খান জয়।

 

প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর আত্মগোপনে চলে যান আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারা। আত্মগোপনের তালিকায় রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বরতরা। তাদের কেউ কেউ গ্রেফতার হচ্ছেন।