ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধবিরতির দাবিতে ইসরাইলজুড়ে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটঃ ০২:০২:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • / ৮৫০ বার পঠিত

হামাসের হাতে আটক ছয় জিম্মির মরদেহ উদ্ধারের পর ইসরাইলজুড়ে যুদ্ধবিরতির দাবিতে নজিরবিহীন বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। শনিবার (৩১ আগস্ট) রাতে রাজধানী তেলআবিবসহ বেশ কয়েকটি শহরে লাখ লাখ ইসরাইলি রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন।

 

আজ সোমবার (০২ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার একটি সুড়ঙ্গ থেকে ছয় জিম্মির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার প্রতিবাদে রোববার রাতে তেল আবিবসহ বেশ কয়েকটি শহরে লাখ লাখ ইসরাইলি রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন।

 

ইসরাইলের গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী রোববার (০১ সেপ্টেম্বর) রাতের এই বিক্ষোভে প্রায় ৫ লাখ ইসরাইলের নাগরিক জেরুজালেম, তেল আবিবসহ কয়েকটি বড় শহরে রাস্তায় নেমেছে।

 

হামাসের হাতে জিম্মিদের মুক্ত করতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে রাজি হতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিক্ষোভকারীরা। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিও জানান অনেকে। বিক্ষোভ থেকেই আজ সোমবার (০২ সেপ্টেম্বর) ইসরাইলজুড়ে সাধারণ ধর্মঘট ডেকেছে প্রধান একটি শ্রমিক ইউনিয়ন।

 

আল জাজিরা বলছে, প্রায় ১১ মাস আগে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রোববারের রাতের বিক্ষোভটি ছিল সবচেয়ে বড়। এদিন বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের খবরও পাওয়া গেছে।

 

বিক্ষোভকারীরা ‘এখন! এখন! স্লোগান দেন এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিমিন নেতানিয়াহুকে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করে বাকি বন্দিদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। অনেক ইসরাইলি তেল আবিবে রাস্তা অবরোধ করেন এবং পশ্চিম জেরুজালেমে নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

 

এর আগে, শনিবার (৩১ আগস্ট) রাফাহ এলাকার একটি সুড়ঙ্গ থেকে ছয় জিম্মির মরদেহ উদ্ধার করে ইসরাইল। নিহত ছয়জন জিম্মির পরিচয় পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে একজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

 

গত বছরের নভেম্বরে গাজায় সাত দিনের যুদ্ধবিরতির সময় হামাস শতাধিক জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছিল। অন্য জিম্মিদের মুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্র, মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতায় গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে উপনীত হওয়ার চেষ্টা চলছে।

 

এদিকে, গাজায় ইসরাইলি বর্বরতা যেন থামছেই না। পোলিও ইস্যুতে তিনদিনের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী।

 

গতকাল রোববার (০১ সেপ্টেম্বর) একটি স্কুলে বিমান হামলা চালায় নেতানিয়াহু বাহিনী। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি হতাহত হয়েছেন। উপত্যকাটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সেই সঙ্গে আহত হয়েছেন লাখো ফিলিস্তিনি।

অর্থআদালতডটকম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার হতে বিরত থাকুন।

যুদ্ধবিরতির দাবিতে ইসরাইলজুড়ে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

আপডেটঃ ০২:০২:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪

হামাসের হাতে আটক ছয় জিম্মির মরদেহ উদ্ধারের পর ইসরাইলজুড়ে যুদ্ধবিরতির দাবিতে নজিরবিহীন বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। শনিবার (৩১ আগস্ট) রাতে রাজধানী তেলআবিবসহ বেশ কয়েকটি শহরে লাখ লাখ ইসরাইলি রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন।

 

আজ সোমবার (০২ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার একটি সুড়ঙ্গ থেকে ছয় জিম্মির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার প্রতিবাদে রোববার রাতে তেল আবিবসহ বেশ কয়েকটি শহরে লাখ লাখ ইসরাইলি রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন।

 

ইসরাইলের গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী রোববার (০১ সেপ্টেম্বর) রাতের এই বিক্ষোভে প্রায় ৫ লাখ ইসরাইলের নাগরিক জেরুজালেম, তেল আবিবসহ কয়েকটি বড় শহরে রাস্তায় নেমেছে।

 

হামাসের হাতে জিম্মিদের মুক্ত করতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে রাজি হতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিক্ষোভকারীরা। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিও জানান অনেকে। বিক্ষোভ থেকেই আজ সোমবার (০২ সেপ্টেম্বর) ইসরাইলজুড়ে সাধারণ ধর্মঘট ডেকেছে প্রধান একটি শ্রমিক ইউনিয়ন।

 

আল জাজিরা বলছে, প্রায় ১১ মাস আগে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রোববারের রাতের বিক্ষোভটি ছিল সবচেয়ে বড়। এদিন বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের খবরও পাওয়া গেছে।

 

বিক্ষোভকারীরা ‘এখন! এখন! স্লোগান দেন এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিমিন নেতানিয়াহুকে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করে বাকি বন্দিদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। অনেক ইসরাইলি তেল আবিবে রাস্তা অবরোধ করেন এবং পশ্চিম জেরুজালেমে নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

 

এর আগে, শনিবার (৩১ আগস্ট) রাফাহ এলাকার একটি সুড়ঙ্গ থেকে ছয় জিম্মির মরদেহ উদ্ধার করে ইসরাইল। নিহত ছয়জন জিম্মির পরিচয় পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে একজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

 

গত বছরের নভেম্বরে গাজায় সাত দিনের যুদ্ধবিরতির সময় হামাস শতাধিক জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছিল। অন্য জিম্মিদের মুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্র, মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতায় গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে উপনীত হওয়ার চেষ্টা চলছে।

 

এদিকে, গাজায় ইসরাইলি বর্বরতা যেন থামছেই না। পোলিও ইস্যুতে তিনদিনের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী।

 

গতকাল রোববার (০১ সেপ্টেম্বর) একটি স্কুলে বিমান হামলা চালায় নেতানিয়াহু বাহিনী। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি হতাহত হয়েছেন। উপত্যকাটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সেই সঙ্গে আহত হয়েছেন লাখো ফিলিস্তিনি।