ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লাগামহীন দ্রব্যমূল্যে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস!

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটঃ ০৪:৫১:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর ২০২৪
  • / ৮৯৯ বার পঠিত

অহিদ ইসলাম। চাকরি করেন ঢাকার একটি প্রাইভেট ফার্মে। ১১ বছরের একমাত্র ছেলে আর স্ত্রী নিয়ে তিন সদস্যের সংসার তার। স্ত্রী রহিমা আরা রওশন চাকরীজীবী। দুইজনের আয়েও হিমশিম খেয়ে যাচ্ছেন সংসারের খরচ মেটাতে।

 

ক্ষোভ আর হতাশা মেশানো কণ্ঠে অহিদ ইসলাম বলেন, গত চারদিনে দুই দফা বাড়ল মুরগির দাম। আজকে ২৩০ টাকা চাইছে ব্রয়লারের দাম। এখন শুধু ডিমের পেছনেই মাসের বাজেট ধরতে হচ্ছে ১৫০০-১৭০০ টাকা। চাল-ডাল, মাছ, সবজী; সবকিছুর দাম বাড়তি। স্বামী-স্ত্রী মিলেও খরচ সামলাতে পারছি না। এভাবে বেশিদিন চলতে থাকলে মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য করা ডিপিএস ভেঙেও কুলাবে না।

 

ব্রয়লার মুরগি সপ্তাহের ব্যবধানে ১০-১৫ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা কেজিতে। এদিকে, মৌসুমের শেষে এসে আগুন ঝরছে ইলিশের বাজারে। কমতির কোনও আভাস নেই চালের বাজারেও। ভোক্তারা বলছেন, দেশের পটপরিবর্তন হলেও বাজারে মেলেনি তার কোনও প্রভাব। এ পরিস্থিতিতে নাভিশ্বাস অবস্থা নিম্ন ও মধ্যবিত্তের।

 

গত জুলাই ও আগস্টের শুরুর দিকে ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ২০০ টাকার ঘরে। হাসিনা সরকারের পতনের পর শিক্ষার্থী ও সরকারি সংস্থার মনিটরিংয়ে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে সেই দাম নামে ১৬০ টাকায়। দুমাস ওঠানামার পর আবারও ডাবল সেঞ্চুরির ঘরে ফিরলো পণ্যটি।

 

গত সপ্তাহেও এর দাম ছিল কেজিপ্রতি ১৮৫-১৯০ টাকা। চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা কেজিতে। বিক্রেতারা বলছেন, মুরগির খাবারের দাম বাড়ায় ও সম্প্রতি বন্যায় খামার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন ব্যবস্থা; এতে বাড়ছে দাম।

 

এদিকে, রপ্তানির খবরের পর বাড়তির দিকে উঠতে থাকা ইলিশের দাম এখন আকাশচুম্বী। বড় আকারের দেড় কেজি ওজনের একেকটি মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ২৬শ থেকে ২৭শ টাকা। এক কেজি ওজনেরটি বেচকেনা চলছে ১৮ থেকে ১৯শ টাকায়।

 

বিক্রেতারা বলছেন, মৌসুম শেষে মাছের সরবরাহ কমেছে; এতে দামও বেড়েছে। রপ্তানি যতদিন চলমান থাকবে, দাম তত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর ক্রেতারা বলছেন, দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে হচ্ছে। বাড়তি দামের কারণে বড় মাছ কেনার সাধ্য নেই। তাই ছোট ইলিশ কিনতে হচ্ছে।

 

এদিকে, চালের বাজারও বাড়তির দিকে। সব থেকে বেশি বেড়েছে মোটা চালের দাম। বর্তমানে প্রতি কেজি মিনিকেট ৭১-৭২ টাকা, আটাশ ৫৭-৫৮ টাকা, নাজিরশাইল ৭৬-৮২ টাকা, পাইজাম ৫৬-৬০ টাকা, সুগন্ধী চিনিগুঁড়া পোলাও ১২০-১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারকে মনিটরিং ও ফিসক্যাল পলিসির পাশাপাশি নিত্যপণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতিতে বিশেষ নজর দিতে হবে।

 

অর্থনীতিবিদ এম আবু ইউসুফ বলেন, নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং চলমান রাখতে হবে। মনিটরিং, ফিসক্যাল পলিসি ও বাজারব্যবস্থাপনায় সরকারকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

 

এদিকে, ৭ অক্টোবর নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজার ও সরবরাহপরিস্থিতি তদারকি এবং পর্যালোচনার জন্য জেলা পর্যায়ে ১০ সদস্যের বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

অর্থআদালতডটকম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার হতে বিরত থাকুন।

লাগামহীন দ্রব্যমূল্যে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস!

আপডেটঃ ০৪:৫১:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর ২০২৪

অহিদ ইসলাম। চাকরি করেন ঢাকার একটি প্রাইভেট ফার্মে। ১১ বছরের একমাত্র ছেলে আর স্ত্রী নিয়ে তিন সদস্যের সংসার তার। স্ত্রী রহিমা আরা রওশন চাকরীজীবী। দুইজনের আয়েও হিমশিম খেয়ে যাচ্ছেন সংসারের খরচ মেটাতে।

 

ক্ষোভ আর হতাশা মেশানো কণ্ঠে অহিদ ইসলাম বলেন, গত চারদিনে দুই দফা বাড়ল মুরগির দাম। আজকে ২৩০ টাকা চাইছে ব্রয়লারের দাম। এখন শুধু ডিমের পেছনেই মাসের বাজেট ধরতে হচ্ছে ১৫০০-১৭০০ টাকা। চাল-ডাল, মাছ, সবজী; সবকিছুর দাম বাড়তি। স্বামী-স্ত্রী মিলেও খরচ সামলাতে পারছি না। এভাবে বেশিদিন চলতে থাকলে মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য করা ডিপিএস ভেঙেও কুলাবে না।

 

ব্রয়লার মুরগি সপ্তাহের ব্যবধানে ১০-১৫ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা কেজিতে। এদিকে, মৌসুমের শেষে এসে আগুন ঝরছে ইলিশের বাজারে। কমতির কোনও আভাস নেই চালের বাজারেও। ভোক্তারা বলছেন, দেশের পটপরিবর্তন হলেও বাজারে মেলেনি তার কোনও প্রভাব। এ পরিস্থিতিতে নাভিশ্বাস অবস্থা নিম্ন ও মধ্যবিত্তের।

 

গত জুলাই ও আগস্টের শুরুর দিকে ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ২০০ টাকার ঘরে। হাসিনা সরকারের পতনের পর শিক্ষার্থী ও সরকারি সংস্থার মনিটরিংয়ে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে সেই দাম নামে ১৬০ টাকায়। দুমাস ওঠানামার পর আবারও ডাবল সেঞ্চুরির ঘরে ফিরলো পণ্যটি।

 

গত সপ্তাহেও এর দাম ছিল কেজিপ্রতি ১৮৫-১৯০ টাকা। চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা কেজিতে। বিক্রেতারা বলছেন, মুরগির খাবারের দাম বাড়ায় ও সম্প্রতি বন্যায় খামার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন ব্যবস্থা; এতে বাড়ছে দাম।

 

এদিকে, রপ্তানির খবরের পর বাড়তির দিকে উঠতে থাকা ইলিশের দাম এখন আকাশচুম্বী। বড় আকারের দেড় কেজি ওজনের একেকটি মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ২৬শ থেকে ২৭শ টাকা। এক কেজি ওজনেরটি বেচকেনা চলছে ১৮ থেকে ১৯শ টাকায়।

 

বিক্রেতারা বলছেন, মৌসুম শেষে মাছের সরবরাহ কমেছে; এতে দামও বেড়েছে। রপ্তানি যতদিন চলমান থাকবে, দাম তত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর ক্রেতারা বলছেন, দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে হচ্ছে। বাড়তি দামের কারণে বড় মাছ কেনার সাধ্য নেই। তাই ছোট ইলিশ কিনতে হচ্ছে।

 

এদিকে, চালের বাজারও বাড়তির দিকে। সব থেকে বেশি বেড়েছে মোটা চালের দাম। বর্তমানে প্রতি কেজি মিনিকেট ৭১-৭২ টাকা, আটাশ ৫৭-৫৮ টাকা, নাজিরশাইল ৭৬-৮২ টাকা, পাইজাম ৫৬-৬০ টাকা, সুগন্ধী চিনিগুঁড়া পোলাও ১২০-১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারকে মনিটরিং ও ফিসক্যাল পলিসির পাশাপাশি নিত্যপণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতিতে বিশেষ নজর দিতে হবে।

 

অর্থনীতিবিদ এম আবু ইউসুফ বলেন, নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং চলমান রাখতে হবে। মনিটরিং, ফিসক্যাল পলিসি ও বাজারব্যবস্থাপনায় সরকারকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

 

এদিকে, ৭ অক্টোবর নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজার ও সরবরাহপরিস্থিতি তদারকি এবং পর্যালোচনার জন্য জেলা পর্যায়ে ১০ সদস্যের বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।