ঢাকা , শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারতকে ‘শত্রু দেশ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করল কানাডা

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটঃ ০৪:২৬:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ নভেম্বর ২০২৪
  • / ৯০৯ বার পঠিত

‘স্বাধীন খালিস্তান’ পন্থী শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কানাডা-ভারতে মধ্যে উত্তেজনা এখন চরমে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতকে শত্রু দেশের তালিকায় ফেলে দিয়েছে কানাডা। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর নেতৃত্বাধীন কানাডিয়ান সরকার ভারতকে সাইবার নিরাপত্তায় ‘শত্রু দেশ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

গতকাল শনিবার (০২ নভেম্বর) সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ভারতকে ‘সাইবার প্রতিপক্ষ’ হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করেছে ট্রুডো সরকার।

 

এনডিটিভি বলছে, কানাডা সম্প্রতি তাদের ‘সাইবার হুমকি নিরূপণ প্রতিবেদন ২০২৫-২৬’ প্রকাশ করে। সেখানেই ভারতকে ‘সাইবার প্রতিপক্ষ হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করা হয়েছে।

 

এর প্রতিক্রিয়ায় ভারত বলেছে, আন্তর্জাতিকভাবে তাদের আক্রমণ ও ক্ষতি করার জন্য কানাডা নতুন আরেকটি কৌশল হাতে নিয়েছে।

 

এদিকে কানাডা অভিযোগ করেছে, সাইবার নিরাপত্তা ব্যবহার করে ভারত তাদের বিরুদ্ধে কাজ করছে। সম্প্রতি দেশটি তাদের ‘সাইবার হুমকি নিরূপণ প্রতিবেদন ২০২৫-২৬’ প্রকাশ করে। ভারতকে নিজেদের ‘সাইবার শত্রুর’ যে তালিকায় কানাডা যুক্ত করেছে সেখানে আছে চীন, রাশিয়া, ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলো।

 

গতকাল শনিবার (০২ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, কানাডিয়ান সরকারের কিছু কর্মকর্তা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন কানাডা বিশ্বমণ্ডলে ভারতের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেছেন ভারতকে ‘সাইবার প্রতিপক্ষ’ অর্থাৎ সাইবার শত্রু হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে কানাডা কোনো শক্তিশালী প্রমাণ প্রকাশ করেনি। আন্তর্জাতিকভাবে ভারতকে আক্রমণ ও ক্ষতি করার ক্ষেত্রে এটি কানাডা সরকারের আরেক কৌশল বলেও জানানো হয়।

 

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবার (০১ নভেম্বর) কানাডার হাইকমিশনের প্রতিনিধিকে ডেকে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। কানাডার উপ-পররষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড মরিসন অমিত শাহ সম্পর্কে যে হাস্যকর ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করেছেন, ভারত সরকার তার কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এরপরেই ভারতকে সাইবার প্রতিপক্ষ হিসেবে আখ্যা দেয় কানাডা।

 

২০২৩ সালে ভ্যাঙ্কুভারে ৪৫ বছর বয়সী নাগরিক হরদীপ সিং নিজ্জরকে হত্যার জন্য ভারতেকে দায়ী করে আসছে কানাডার সরকার। তবে ভারত সরকার বরাবরই কানাডার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।ভারতের দাবি, প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো তার রাজনৈতিক এজেন্ডার কারণে কানাডায় খালিস্তান সমর্থকদের পক্ষে কথা বলছেন।

 

২০২১ এর পরিসংখ্যান বলছে, কানাডার জনসংখ্যার ২.১% শিখ সম্প্রদায়ভুক্ত। ২০০১ সাল থেকে ২০২১ পর্যন্ত, গত ২০ বছরে কানাডায় শিখ জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই শিক্ষা, ক্যারিয়ার, চাকরির মতো কারণে পাঞ্জাব থেকে কানাডায় পাড়ি দিয়েছেন।

 

কানাডায় বসবাসরত শিখ জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি টরন্টো এবং ভ্যাঙ্কুভারে বাস করে। শিখ ভোটব্যাংককে মাথায় রেখে এই সমস্ত এলাকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

 

২০২৫ সালের অক্টোবরে কানাডায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এবং জাস্টিন ট্রুডো চান কানাডায় বসবাসকারী শিখ সম্প্রদায় তাকে সমর্থন করুক।

অর্থআদালতডটকম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার হতে বিরত থাকুন।

ভারতকে ‘শত্রু দেশ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করল কানাডা

আপডেটঃ ০৪:২৬:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ নভেম্বর ২০২৪

‘স্বাধীন খালিস্তান’ পন্থী শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কানাডা-ভারতে মধ্যে উত্তেজনা এখন চরমে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতকে শত্রু দেশের তালিকায় ফেলে দিয়েছে কানাডা। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর নেতৃত্বাধীন কানাডিয়ান সরকার ভারতকে সাইবার নিরাপত্তায় ‘শত্রু দেশ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

গতকাল শনিবার (০২ নভেম্বর) সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ভারতকে ‘সাইবার প্রতিপক্ষ’ হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করেছে ট্রুডো সরকার।

 

এনডিটিভি বলছে, কানাডা সম্প্রতি তাদের ‘সাইবার হুমকি নিরূপণ প্রতিবেদন ২০২৫-২৬’ প্রকাশ করে। সেখানেই ভারতকে ‘সাইবার প্রতিপক্ষ হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করা হয়েছে।

 

এর প্রতিক্রিয়ায় ভারত বলেছে, আন্তর্জাতিকভাবে তাদের আক্রমণ ও ক্ষতি করার জন্য কানাডা নতুন আরেকটি কৌশল হাতে নিয়েছে।

 

এদিকে কানাডা অভিযোগ করেছে, সাইবার নিরাপত্তা ব্যবহার করে ভারত তাদের বিরুদ্ধে কাজ করছে। সম্প্রতি দেশটি তাদের ‘সাইবার হুমকি নিরূপণ প্রতিবেদন ২০২৫-২৬’ প্রকাশ করে। ভারতকে নিজেদের ‘সাইবার শত্রুর’ যে তালিকায় কানাডা যুক্ত করেছে সেখানে আছে চীন, রাশিয়া, ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলো।

 

গতকাল শনিবার (০২ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, কানাডিয়ান সরকারের কিছু কর্মকর্তা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন কানাডা বিশ্বমণ্ডলে ভারতের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেছেন ভারতকে ‘সাইবার প্রতিপক্ষ’ অর্থাৎ সাইবার শত্রু হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে কানাডা কোনো শক্তিশালী প্রমাণ প্রকাশ করেনি। আন্তর্জাতিকভাবে ভারতকে আক্রমণ ও ক্ষতি করার ক্ষেত্রে এটি কানাডা সরকারের আরেক কৌশল বলেও জানানো হয়।

 

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবার (০১ নভেম্বর) কানাডার হাইকমিশনের প্রতিনিধিকে ডেকে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। কানাডার উপ-পররষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড মরিসন অমিত শাহ সম্পর্কে যে হাস্যকর ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করেছেন, ভারত সরকার তার কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এরপরেই ভারতকে সাইবার প্রতিপক্ষ হিসেবে আখ্যা দেয় কানাডা।

 

২০২৩ সালে ভ্যাঙ্কুভারে ৪৫ বছর বয়সী নাগরিক হরদীপ সিং নিজ্জরকে হত্যার জন্য ভারতেকে দায়ী করে আসছে কানাডার সরকার। তবে ভারত সরকার বরাবরই কানাডার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।ভারতের দাবি, প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো তার রাজনৈতিক এজেন্ডার কারণে কানাডায় খালিস্তান সমর্থকদের পক্ষে কথা বলছেন।

 

২০২১ এর পরিসংখ্যান বলছে, কানাডার জনসংখ্যার ২.১% শিখ সম্প্রদায়ভুক্ত। ২০০১ সাল থেকে ২০২১ পর্যন্ত, গত ২০ বছরে কানাডায় শিখ জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই শিক্ষা, ক্যারিয়ার, চাকরির মতো কারণে পাঞ্জাব থেকে কানাডায় পাড়ি দিয়েছেন।

 

কানাডায় বসবাসরত শিখ জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি টরন্টো এবং ভ্যাঙ্কুভারে বাস করে। শিখ ভোটব্যাংককে মাথায় রেখে এই সমস্ত এলাকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

 

২০২৫ সালের অক্টোবরে কানাডায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এবং জাস্টিন ট্রুডো চান কানাডায় বসবাসকারী শিখ সম্প্রদায় তাকে সমর্থন করুক।