সোহরাওয়ার্দীতে এবার সাদপন্থিদের মহাসমাবেশের ডাক
- আপডেটঃ ০১:০২:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৪
- / ৮৪০ বার পঠিত
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এবার মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছেন তাবলিগ জামাতের একাংশ দিল্লির মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা। আগামী ৭ ডিসেম্বর এ মহাসমাবেশ করবেন তারা।
গতকাল শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সাদপন্থি কাকরাইল মারকাজ মসজিদের ইমাম মুফতি মুহাম্মদ আযীমুদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে, সম্প্রতি তাবলিগের অপর অংশ জুবায়েরপন্থিরা সোহরাওয়ার্দীতে মহাসমাবেশ করেন। এর পর থেকেই মাওলানা সাদ ও জুবায়েরপন্থিদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। এরই মধ্যে গতকাল কাকরাইল মসজিদে বিশাল জামাতে জুমার নামাজ আদায় করলেন সাদ অনুসারীরা। হাজার হাজার মুসল্লি একত্রে কাকরাইল মসজিদে যান। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাদপন্থিরা মসজিদে প্রবেশের সময় কিছুটা হট্টগোল হয়। তবে পরে কোনো সমস্যা হয়নি।
ওয়াক্ত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে নামাজ শুরু হয়ে সাড়ে ১২টায় শেষ হয়। দুপুর ১২টার আগে হাজার হাজার লোকে পরিপূর্ণ হয়ে যায় কাকরাইল এলাকা। প্রধান সড়ক পার হয়ে প্রধান বিচারপতির বাসভবন ছাড়িয়ে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে জুম্মা আদায় করেন মুসল্লিরা। নিরাপত্তার স্বার্থে কাকরাইল মসজিদের পাশে, রমনা ও প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে যাওয়ার পথটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
কাকরাইল মসজিদে অবস্থানের ক্ষেত্রে তাবলিগের দুই গ্রুপ মাওলানা জুবায়েরপন্থিরা চার সপ্তাহ ও মাওলানা সাদপন্থিরা দু’সপ্তাহ করে পর্যায়ক্রমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। সে নিয়ম অনুযায়ী শুক্রবার সাদপন্থিরা কাকরাইল মসজিদে অবস্থান নেন।
জানা গেছে, নির্ধারিত অবস্থানের সময় শেষ হওয়ায় মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা সকালে কাকরাইল মসজিদ থেকে সরে যান।
রমনা জোনের ডিসি মাসুদ আলম বলেছেন, জুবায়েরপন্থীরা চার সপ্তাহ অবস্থান করেছিলেন। শুক্রবার তারা অবস্থান ছেড়ে দিয়েছেন।
এখন দুই সপ্তাহ অবস্থান করবেন সাদপন্থীরা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন কোন অবনতি না ঘটে, সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আজ শান্তিপূর্ণভাবে বের হয়ে যান জুবায়েরপন্থীরা, তারপর সুশৃঙ্খলভাবে প্রবেশ করেন সাদপন্থীরা।
জানা যায়, ২০১৭ সালের নভেম্বরে দু’পক্ষের দ্বন্দ্ব প্রথম প্রকাশ্য রূপ নেয়। সেদিন কাকরাইলে দুই দলের কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। চরম বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় গত ৭ বছর ধরে প্রশাসনের সিদ্ধান্তে কাকরাইল মসজিদের এক অংশে জুবায়েরপন্থিরা ৪ সপ্তাহ ও সাদপন্থিরা দুই সপ্তাহ করে পর্যায়ক্রমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তবে মসজিদের অপর অংশ জুবায়েরপন্থিরা ১২ মাসই নিজেদের দখলে রাখেন। সাদপন্থিদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে হেফাজত সমর্থিত জুবায়েরপন্থিরা বেশি সুবিধাভোগ করে আসছেন। টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার মাঠ নিয়েও দুই পক্ষের বিরোধ দিনে দিনে তীব্র হচ্ছে।
গত ৪ নভেম্বর সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমা দুই দফায় আয়োজিত হবে। প্রথম দফার ইজতেমা শুরু হবে আগামী ৩১ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় দফায় শুরু হবে ৭ ফেব্রুয়ারি।










