ঢাকা , সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তিন দশকে পাহাড়ে আধিপত্যের লড়াই ২ হাজার প্রাণহানি

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটঃ ০৩:০৭:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৪
  • / ৯১০ বার পঠিত

পার্বত্য রাঙ্গামাটির সবুজ উপত্যকা আজ মৃত্যুপুরী। নব্বই দশকের পর পাহাড়ে এতটা রক্ত আর কখনো ঝরেনি। চলতি বছরের মে মাসের শুরুতে নিহত হন পাহাড়ে আঞ্চলিক রাজনীতির দুই শীর্ষ নেতা। যার একজন বাংলাদেশ সরকার ও জনসংহতি সমিতির প্রধান মধ্যস্থতাকারী ও উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা। এর মাত্র ২৪ দিনের ব্যবধানে আবারও ঝরল চার প্রাণ। আর তিন দশকে এই তিন পাহাড়ি অঞ্চলে অভ্যন্তরীণ বিরোধসহ নানা সংঘাতে দুই হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

 

পার্বত্য জেলাগুলোর মধ্যে খাগড়াছড়িকেই সবচেয়ে বেশি সংঘাতপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে দুই যুগের বেশি সময় ধরে এখানে শান্তি চুক্তির পক্ষের সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য জনসংহতি সমিতি-জেএসএস এবং ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফের বিরোধ চলে আসছে।

 

সবশেষ গত তিন মাসে পানছড়িতে ৪ জন এবং দীঘিনালায় ২ জন খুন হয়েছে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে। এখানকার প্রতিটি সন্ত্রাসী গ্রুপের হাতে রয়েছে একে ফোরটি সেভেন এবং এম সিক্সটিনের মতো অত্যাধুনিক ভারী অস্ত্র।

 

স্থানীয়রা জানান, এখানে চারটি গ্রুপ আছে। প্রতি গ্রুপকে আলাদা আলাদা চাঁদা দিতে হয়। আগে একটা গ্রুপকে চাঁদা দিলেই হতো। শান্তি চুক্তির পর কোথাও কোথাও ছয় গ্রুপকে চাঁদা দিতে হচ্ছে। এক সময়ের শান্ত পাহাড়ি অঞ্চল এবং পর্যটকদের অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র বান্দরবান জেলাতেও চলছে আধিপত্যের লড়াই। এখানে জেএসএস-ইউপিডিএফের পাশাপাশি রয়েছে জেএসএস সংস্কার, ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক, মগ পার্টি এবং কুকিচিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)। বাকি সংগঠনগুলোর চেয়ে কেএনএফ এ অঞ্চলে ব্যাংক ডাকাতির মতো ভয়ংকর অপরাধ করেই অবস্থান জানান দিয়ে যাচ্ছে।

 

স্থানীয় একজন জানান, আধিপত্য বিস্তারের জন্য তারা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। ফলে দিনে দিনে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ছে এক সময়ের শান্তিপূর্ণ এ জেলা। শুধু রাঙ্গামাটি জেলাতেই গত এক দশকে অন্তত ৪০০ খুন হয়েছে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। তবে সম্প্রতি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় পাহাড়ি সংগঠনগুলোর মধ্যে সশস্ত্র লড়াইয়ের মাত্রা কিছুটা কমলেও বন্ধ নেই চাঁদাবাজি। বাকি জেলাগুলোর বিপরীতে এখানে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর চাঁদা আদায়ের হার তুলনামূলক বেশি। চাঁদা আদায়ের ক্ষেত্রে সংগঠনগুলোর যেমন অলিখিত বোঝাপড়া রয়েছে, তেমনি যারা চাঁদা দিচ্ছেন তারাও রহস্যজনক কারণে নীরবে সহ্য করে যাচ্ছেন।

 

গত তিন দশকে এই তিন পাহাড়ি অঞ্চলে অভ্যন্তরীণ বিরোধসহ নানা সংঘাতে দুই হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আর কত মানুষ আহত হয়েছেন তার কোনো পরিসংখ্যান নেই কারও কাছে।

অর্থআদালতডটকম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার হতে বিরত থাকুন।

তিন দশকে পাহাড়ে আধিপত্যের লড়াই ২ হাজার প্রাণহানি

আপডেটঃ ০৩:০৭:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৪

পার্বত্য রাঙ্গামাটির সবুজ উপত্যকা আজ মৃত্যুপুরী। নব্বই দশকের পর পাহাড়ে এতটা রক্ত আর কখনো ঝরেনি। চলতি বছরের মে মাসের শুরুতে নিহত হন পাহাড়ে আঞ্চলিক রাজনীতির দুই শীর্ষ নেতা। যার একজন বাংলাদেশ সরকার ও জনসংহতি সমিতির প্রধান মধ্যস্থতাকারী ও উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা। এর মাত্র ২৪ দিনের ব্যবধানে আবারও ঝরল চার প্রাণ। আর তিন দশকে এই তিন পাহাড়ি অঞ্চলে অভ্যন্তরীণ বিরোধসহ নানা সংঘাতে দুই হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

 

পার্বত্য জেলাগুলোর মধ্যে খাগড়াছড়িকেই সবচেয়ে বেশি সংঘাতপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে দুই যুগের বেশি সময় ধরে এখানে শান্তি চুক্তির পক্ষের সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য জনসংহতি সমিতি-জেএসএস এবং ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফের বিরোধ চলে আসছে।

 

সবশেষ গত তিন মাসে পানছড়িতে ৪ জন এবং দীঘিনালায় ২ জন খুন হয়েছে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে। এখানকার প্রতিটি সন্ত্রাসী গ্রুপের হাতে রয়েছে একে ফোরটি সেভেন এবং এম সিক্সটিনের মতো অত্যাধুনিক ভারী অস্ত্র।

 

স্থানীয়রা জানান, এখানে চারটি গ্রুপ আছে। প্রতি গ্রুপকে আলাদা আলাদা চাঁদা দিতে হয়। আগে একটা গ্রুপকে চাঁদা দিলেই হতো। শান্তি চুক্তির পর কোথাও কোথাও ছয় গ্রুপকে চাঁদা দিতে হচ্ছে। এক সময়ের শান্ত পাহাড়ি অঞ্চল এবং পর্যটকদের অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র বান্দরবান জেলাতেও চলছে আধিপত্যের লড়াই। এখানে জেএসএস-ইউপিডিএফের পাশাপাশি রয়েছে জেএসএস সংস্কার, ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক, মগ পার্টি এবং কুকিচিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)। বাকি সংগঠনগুলোর চেয়ে কেএনএফ এ অঞ্চলে ব্যাংক ডাকাতির মতো ভয়ংকর অপরাধ করেই অবস্থান জানান দিয়ে যাচ্ছে।

 

স্থানীয় একজন জানান, আধিপত্য বিস্তারের জন্য তারা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। ফলে দিনে দিনে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ছে এক সময়ের শান্তিপূর্ণ এ জেলা। শুধু রাঙ্গামাটি জেলাতেই গত এক দশকে অন্তত ৪০০ খুন হয়েছে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। তবে সম্প্রতি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় পাহাড়ি সংগঠনগুলোর মধ্যে সশস্ত্র লড়াইয়ের মাত্রা কিছুটা কমলেও বন্ধ নেই চাঁদাবাজি। বাকি জেলাগুলোর বিপরীতে এখানে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর চাঁদা আদায়ের হার তুলনামূলক বেশি। চাঁদা আদায়ের ক্ষেত্রে সংগঠনগুলোর যেমন অলিখিত বোঝাপড়া রয়েছে, তেমনি যারা চাঁদা দিচ্ছেন তারাও রহস্যজনক কারণে নীরবে সহ্য করে যাচ্ছেন।

 

গত তিন দশকে এই তিন পাহাড়ি অঞ্চলে অভ্যন্তরীণ বিরোধসহ নানা সংঘাতে দুই হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আর কত মানুষ আহত হয়েছেন তার কোনো পরিসংখ্যান নেই কারও কাছে।