তিন কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র যাত্রাবাড়ী
- আপডেটঃ ১২:৫৩:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৪
- / ৮৭৬ বার পঠিত
রাজধানীর ডেমরায় ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের (ডিএমআরসি) ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা। এতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা এলাকা রূপ নেয় রণক্ষেত্রে। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘাতে শতাধিক শিক্ষার্থীর রক্ত ঝরেছে। তাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যাত্রাবাড়ী-ডেমরা এলাকায় ছয় প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার (২৫ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ডেমরার ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে ঘোষণা দিয়ে হামলা চালায়। এ সময় কলেজটির তিনটি বহুতল ভবনের সবকিছু লন্ডভন্ড করে দেওয়া হয়। ভাঙচুর করা হয় কম্পিউটারসহ মূল্যবান আসবাব। লুটপাট হয়েছে টাকা; তছনছ করা হয়েছে কাগজপত্র। এক পর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল।
মোল্লা কলেজে হামলার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে এক ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। দলবদ্ধ হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে এক পক্ষ আরেক পক্ষের ওপর হামলে পড়ে। ঘটনাস্থলে গিয়ে পিঠে ব্যাগসহ কলেজের পোশাক পরা বেশ কয়েকজনকে রক্তাক্ত পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এ পরিস্থিতিতে সোহরাওয়ার্দী, কবি নজরুল, ঢাকা কলেজ এবং সেন্ট গ্রেগরি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। স্থগিত হয়ে গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের মঙ্গলবারের চূড়ান্ত পরীক্ষা।
এদিকে পূর্ববিরোধের জের ধরে মোল্লা কলেজে সোমবার (২৫ নভেম্বর) হামলার ঘোষণা দেওয়া হলেও কেন তা প্রতিরোধে প্রশাসন আগেভাগে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি– এমন প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। তবে পুলিশ বলছে, এ ঘটনা পরিকল্পিত। সরকারের তরফ থেকে সংঘাতে না জড়িয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ১৮ নভেম্বর মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থী অভিজিৎ হাওলাদারের মৃত্যুর ঘটনার জেরে সংঘাতের শুরু। ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে– এমন অভিযোগ ছিল শিক্ষার্থীদের। তাঁর মৃত্যু ঘিরে ২০ ও ২১ নভেম্বরে হাসপাতাল অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, ওই দিন ন্যাশনাল মেডিকেলের পক্ষ নিয়ে কবি নজরুল ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এর প্রতিবাদে ৩৫ কলেজের শিক্ষার্থীরা এক হয়ে অনলাইনে ‘সুপার সানডে’ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।ওই কর্মসূচি থেকে রোববার (২৪ নভেম্বর) ন্যাশনাল মেডিকেল এবং পাশের সোহরাওয়ার্দী কলেজ, তিতুমীর কলেজ ও সেন্ট গ্রেগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে হামলা হয়।
ওই হামলা ও লুটপাটের প্রতিবাদে সোমবার (২৫ নভেম্বর) ‘মেগা মানডে’ কর্মসূচির ডাক দেয় সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। এর অংশ হিসেবে গতকাল সকাল থেকে সোহরাওয়ার্দী কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকে। পরে তারা মিছিল নিয়ে কবি নজরুল কলেজের সামনে যায়। সেখান থেকে শত শত শিক্ষার্থী একত্রিত হয়ে মোল্লা কলেজে হামলা চালায়।
যাত্রাবাড়ী ও ডেমরায় সংঘাতে আহত ৪০ শিক্ষার্থী ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যায়। এর মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। আহত ৩০ জনকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সংঘাতে আহতদের মধ্যে আছেন সোহরাওয়ার্দী কলেজের রাজীব, শাহেদুল, কবি নজরুল কলেজের অনুপম দাস, রানা, সুমন, মারুফ, হাসিনুর, আরাফাত, হুমায়ুন, রুমান, নাইম, সিয়াম, মোল্লা সোহাগ, রাজিম, শরিফুল, জাহিদ, মোস্তফা, রাতুল, শফিকুল ইসলাম, মেহেদী হাসান, সজীব বেপারি, ফয়সাল, সাগর, ইমন ও সিয়াম।
যাত্রাবাড়ী ও মাতুয়াইলের স্থানীয় ক্লিনিকে অন্তত ৩৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। আহতদের একজন মোল্লা কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, সকালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মারামারির খবর শুনে বাসা থেকে বের হয়। এর একটু পর গুরুতর জখম হয়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে ডেমরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়।










