সিরিয়ায় দুই দিনে ৪৮০ হামলা ইসরায়েলের
- আপডেটঃ ০৩:৪২:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৪
- / ৮৮৬ বার পঠিত
সিরিয়ায় বাশার আল–আসাদ সরকারের পতন হতে না হতেই ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছে সিরিয়া। গত ৪৮ ঘণ্টায় দেশটির বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৪৮০টি বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ভয়াবহ এ হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে সিরীয় নৌবহরও।
আজ বুধবার (১১ ডিসেম্বর) পৃথক প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে বার্তাসংস্থা এএফপি এবং সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, ‘গত ৪৮ ঘণ্টায় সিরিয়ার বিভিন্ন স্থানে ৪৮০টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ১৫টি নৌযান, বিমান-বিধ্বংসী ব্যাটারি এবং বেশ কয়েকটি অস্ত্র উৎপাদন সাইট ছিল।’
সিরিয়ার তত্ত্বাবধায়ক সকারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-বশির বলেছেন, ‘সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রয়োজন। সবাই ধৈর্য ধরুন। আমরা সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে নাগরিক পরিষেবা চালু করার চেষ্টা করছি এবং সরবকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালু করার জন্য কাজ করছি।’
এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, অস্ত্রের গুদাম, গোলাবারুদের গুদাম, বিমানবন্দর, নৌঘাঁটি ও গবেষণা কেন্দ্রসহ সিরিয়ার সেনাবাহিনীর সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েল বলছে, আসাদ সরকারের পতনের পর অস্ত্র যাতে ‘চরমপন্থীদের হাতে’ চলে না যায়, সেজন্যই এ পদক্ষেপ নিয়েছে তারা।
গত রোববার সিরিয়ায় বাশার আল আসাদ সরকারের পতনের পর পরই দামেস্কের একটি রাসায়নিক অস্ত্র কারখানায় হামলা চালায় আইডিএফ, যাতে বিদ্রোহীরা এই অস্ত্র কারখানা দখলে নিতে না পারে।
বাশার আল আসাদ সরকারের পতনের পরপরই সিরিয়ার অধিকৃত গোলান মালভূমি দখলে নেয় ইসরায়েলি বাহিনী। এরপর তারা গত মঙ্গলবার হারমন পার্বত্য অঞ্চল দখলে নিয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী এখন সিরিয়ার রাজধানী দিমেস্কের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে আইডিএফ এই খবর অস্বীকার করে বলেছে, দামেস্কের দিকে তাদের ট্যাংক অগ্রসর হওয়ার খবর ‘মিথ্যা’।
এদিকে সিরিয়ার ওপর ইসরায়েলি হামলা ও ভূমি দখলের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, কাতার ও ইরাক। দেশ তিনটি বলেছে, সিরিয়াতে ইসরায়েলের হামলা দেশটির সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। ইসরায়েলের এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড এ অঞ্চলকে আরও সংঘাতের দিকে নিয়ে যাবে।’
গত রোববার বিদ্রোহীদের অব্যাহত আক্রমণে মুখে দামেস্ক থেকে পালিয়ে রাশিয়ায় আশ্রয় নেন প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। এরপর পরই ইসরায়েলি ট্যাংক ঢুকে পড়ে সিরিয়ায় এবং গোলান মালভূমির দখল নিতে শুরু করে।










