ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্নি বিদ্রোহীদের মদদ দিচ্ছে তুরস্ক, উৎখাত হওয়ার আগে ইরানকে বলেছিলেন আসাদ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটঃ ০৩:৩৫:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪
  • / ৯১৬ বার পঠিত

ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ পতনের ঠিক আগে মিত্র ইরানের কাছে এমন অভিযোগ করেছিলেন সিরিয়ার সুন্নি বিদ্রোহীদের সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছে তুরস্ক। বিদ্রোহীদের দামেস্ক দখলের হুমকির মুখে গত রোববার (০৮ ডিসেম্বর) দেশ ছেড়ে রাশিয়ায় পালিয়ে যান আসাদ। রুশ সরকার তাঁকে আশ্রয় দিয়েছে।

 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির কাছে তুরস্কের ব্যাপারে নিজের মনোভাব জানিয়েছিলেন আসাদ। দুই ইরানি কর্মকর্তা এই সপ্তাহে রয়টার্সকে এ তথ্য বলেছেন।

 

আজ রোববার (১৫ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

 

২০১১ সাল থেকে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলছে। যুদ্ধে আসাদ বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে গেছে ইরান। আসাদের উৎখাত ওই অঞ্চলে ইরানের প্রভাবের ওপর বড় ধাক্কা বলে বিবেচনা করা হয়।

 

হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) নেতৃত্বে বিদ্রোহী যোদ্ধারা যখন একের পর এক শহর দখল করে রাজধানীর দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন, সে সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করেন আসাদ। ২ ডিসেম্বর দামেস্কে ওই বৈঠক হয়েছিল।

 

ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, বৈঠকে আসাদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, তাঁকে উৎখাত করতে তুরস্কের প্রচেষ্টা জোরদার হয়েছে।

 

আরাগচি আসাদকে ইরানের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে নিশ্চিত করেছিলেন এবং বিষয়টি নিয়ে আঙ্কারার সঙ্গে কথা বলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

 

পরদিন আরাগচি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বিদ্রোহীদের (সিরিয়ার) প্রতি আঙ্কারার সমর্থন নিয়ে তেহরানের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

 

দ্বিতীয় ইরানি কর্মকর্তা বলেন, ‘ওই বৈঠক ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের অ্যাজেন্ডাগুলোর সঙ্গে তুরস্কের সম্পৃক্ততা নিয়ে ইরান অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিল এবং আসাদের উদ্বেগের কথাও জানিয়েছিল।’

 

বৈঠকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিদান এই সংকটের জন্য আসাদকে দায়ী করেছিলেন বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। ফিদান জোর দিয়ে বলেছিলেন, একটি সত্যিকারের শান্তি আলোচনা শুরু করতে আসাদের ব্যর্থতা এবং বছরের পর বছর তাঁর নিপীড়নমূলক শাসন এই যুদ্ধের মূল কারণ।

 

ইরানের দুই কর্মকর্তার এই দাবি অবশ্য পুরোপুরি সঠিক নয় বলে জানিয়েছে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র। সূত্রটি বলেছে, ফিদান ঠিক এভাবে কথা বলেননি। সূত্রটি এই দাবিও করে, আরাগচি আসাদের কোনো বার্তা তুরস্কের কাছে বয়ে আনেননি। ওই সূত্র এ নিয়ে বিস্তারিত আর কিছু বলেনি।

অর্থআদালতডটকম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার হতে বিরত থাকুন।

সুন্নি বিদ্রোহীদের মদদ দিচ্ছে তুরস্ক, উৎখাত হওয়ার আগে ইরানকে বলেছিলেন আসাদ

আপডেটঃ ০৩:৩৫:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪

ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ পতনের ঠিক আগে মিত্র ইরানের কাছে এমন অভিযোগ করেছিলেন সিরিয়ার সুন্নি বিদ্রোহীদের সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছে তুরস্ক। বিদ্রোহীদের দামেস্ক দখলের হুমকির মুখে গত রোববার (০৮ ডিসেম্বর) দেশ ছেড়ে রাশিয়ায় পালিয়ে যান আসাদ। রুশ সরকার তাঁকে আশ্রয় দিয়েছে।

 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির কাছে তুরস্কের ব্যাপারে নিজের মনোভাব জানিয়েছিলেন আসাদ। দুই ইরানি কর্মকর্তা এই সপ্তাহে রয়টার্সকে এ তথ্য বলেছেন।

 

আজ রোববার (১৫ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

 

২০১১ সাল থেকে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলছে। যুদ্ধে আসাদ বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে গেছে ইরান। আসাদের উৎখাত ওই অঞ্চলে ইরানের প্রভাবের ওপর বড় ধাক্কা বলে বিবেচনা করা হয়।

 

হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) নেতৃত্বে বিদ্রোহী যোদ্ধারা যখন একের পর এক শহর দখল করে রাজধানীর দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন, সে সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করেন আসাদ। ২ ডিসেম্বর দামেস্কে ওই বৈঠক হয়েছিল।

 

ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, বৈঠকে আসাদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, তাঁকে উৎখাত করতে তুরস্কের প্রচেষ্টা জোরদার হয়েছে।

 

আরাগচি আসাদকে ইরানের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে নিশ্চিত করেছিলেন এবং বিষয়টি নিয়ে আঙ্কারার সঙ্গে কথা বলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

 

পরদিন আরাগচি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বিদ্রোহীদের (সিরিয়ার) প্রতি আঙ্কারার সমর্থন নিয়ে তেহরানের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

 

দ্বিতীয় ইরানি কর্মকর্তা বলেন, ‘ওই বৈঠক ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের অ্যাজেন্ডাগুলোর সঙ্গে তুরস্কের সম্পৃক্ততা নিয়ে ইরান অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিল এবং আসাদের উদ্বেগের কথাও জানিয়েছিল।’

 

বৈঠকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিদান এই সংকটের জন্য আসাদকে দায়ী করেছিলেন বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। ফিদান জোর দিয়ে বলেছিলেন, একটি সত্যিকারের শান্তি আলোচনা শুরু করতে আসাদের ব্যর্থতা এবং বছরের পর বছর তাঁর নিপীড়নমূলক শাসন এই যুদ্ধের মূল কারণ।

 

ইরানের দুই কর্মকর্তার এই দাবি অবশ্য পুরোপুরি সঠিক নয় বলে জানিয়েছে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র। সূত্রটি বলেছে, ফিদান ঠিক এভাবে কথা বলেননি। সূত্রটি এই দাবিও করে, আরাগচি আসাদের কোনো বার্তা তুরস্কের কাছে বয়ে আনেননি। ওই সূত্র এ নিয়ে বিস্তারিত আর কিছু বলেনি।