ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলি বাহিনীর বাধায় ঘরে ফিরতে পারছেনা ফিলিস্তিনিরা

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটঃ ০৩:৪২:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৫
  • / ৮৫৩ বার পঠিত

যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করছে হামাস—এমন অভিযোগ তুলে ইসরায়েলি সেনারা গাজার একটি প্রধান সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। এর ফলে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি এ উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে নিজেদের বাড়িঘরে ফিরতে পারছেন না।

 

গত শনিবার (২৫ জানুয়ারী) হামাস তাদের হাতে জিম্মি চার ইসরায়েলি নারী সেনাকে মুক্তি দেয়। বিনিময়ে ২০০ ফিলিস্তিনি কারাবন্দীকে মুক্তি দেয় ইসরায়েল। এরপরই দেশটি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠনটির বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে।

 

দেশটির সরকার বলছে, বেসামরিক ইসরায়েলি আরবেল ইয়াহুদের মুক্তির যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেটি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত গাজার বাসিন্দাদের উত্তর দিকে যেতে দেওয়া হবে না। তবে হামাস দাবি করেছে, আরবেল জীবিত আছেন এবং আগামী সপ্তাহে মুক্তি পাবেন।

 

গত শনিবার (২৫ জানুয়ারী) সন্ধ্যা থেকে যখন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি গাজার কেন্দ্রে আল-রাশিদ সড়কের পাশে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার জন্য জমায়েত হয়েছিল, তখন ইসরায়েলি বাহিনীর তরফ থেকে গুলি চালানোর খবর পাওয়া যায়। হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং ফিলিস্তিনি মিডিয়া জানিয়েছে, ওই সময় একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।

 

গাজার ফিলিস্তিনিদের উত্তরে তাদের বাড়িঘরে ফেরার ব্যবস্থা করতে কাজ করছে কাতার ও মিসর। কিন্তু ইসরায়েলি সেনারা উপকূলীয় ওই সড়ক অবরোধ করে রেখেছে। এ সড়ক ধরেই হেঁটে গাজার উত্তরে ফেরার অপেক্ষায় আছেন ফিলিস্তিনিরা।

 

ইসরায়েলের হামলায় বিধ্বস্ত গাজা থেকে জর্ডান ও মিসরের আরও ফিলিস্তিনি নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটা কী স্বল্প না দীর্ঘ মেয়াদের জন্য– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে কোনোটাই হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট গাজাকে ‘ডেমোলিশন সাইট’ বা ধ্বংসযজ্ঞের স্থান অ্যাখ্যা দিয়েছেন। এক বছরের বেশি সময়ের যুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনী ভূখণ্ডটির ৪৭ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে; এমন ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, এখন সেখানে ভয়াবহ মানবিক সংকট বিরাজ করছে।

 

ইসরায়েলকে ২ হাজার পাউন্ডের বোমা দেওয়ার বিষয়টি এতদিন আটকে রেখেছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে বাইডেনের সেই বাধা উপেক্ষা করারও নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত আকাশযান এয়ারফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, আমরা সেগুলোকে ছেড়ে দিয়েছি। তারা সেগুলো পেয়ে যাবে। ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, শক্তিশালী এ বোমাগুলো সরবরাহের অনুমতি কেন দিলেন? জবাবে তিনি বলেন, কারণ, তারা সেগুলো কিনেছে।

 

এদিকে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইসরায়েলিদের প্রত্যাহারের সময়সীমা রোববার ভোররাতে পার হয়ে গেলেও দেশটির সেনারা কয়েকটি এলাকায় রয়ে গেছে। ইসরায়েল বলছে, হিজবুল্লাহর সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ায় এমনটি হয়েছে। এ অবস্থায় ওই অঞ্চলে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টাকালে লেবাননের নাগরিকদের ওপর হামলা করেছে দখলদার দেশটি। এতে ১১ জন নিহত এবং ৮৩ জন আহত হয়েছেন। রোববার লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে ইসরায়েলি বর্বরতায় এ পর্যন্ত ৩৮ হাজার শিশু এতিম হয়েছে। বিধবা হয়েছেন ১৪ হাজারের বেশি নারী এবং প্রাণ হারিয়েছে ১৩ হাজার শিশু। গতকাল জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এ কথা জানা গেছে।

অর্থআদালতডটকম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার হতে বিরত থাকুন।

ইসরায়েলি বাহিনীর বাধায় ঘরে ফিরতে পারছেনা ফিলিস্তিনিরা

আপডেটঃ ০৩:৪২:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৫

যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করছে হামাস—এমন অভিযোগ তুলে ইসরায়েলি সেনারা গাজার একটি প্রধান সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। এর ফলে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি এ উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে নিজেদের বাড়িঘরে ফিরতে পারছেন না।

 

গত শনিবার (২৫ জানুয়ারী) হামাস তাদের হাতে জিম্মি চার ইসরায়েলি নারী সেনাকে মুক্তি দেয়। বিনিময়ে ২০০ ফিলিস্তিনি কারাবন্দীকে মুক্তি দেয় ইসরায়েল। এরপরই দেশটি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠনটির বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে।

 

দেশটির সরকার বলছে, বেসামরিক ইসরায়েলি আরবেল ইয়াহুদের মুক্তির যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেটি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত গাজার বাসিন্দাদের উত্তর দিকে যেতে দেওয়া হবে না। তবে হামাস দাবি করেছে, আরবেল জীবিত আছেন এবং আগামী সপ্তাহে মুক্তি পাবেন।

 

গত শনিবার (২৫ জানুয়ারী) সন্ধ্যা থেকে যখন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি গাজার কেন্দ্রে আল-রাশিদ সড়কের পাশে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার জন্য জমায়েত হয়েছিল, তখন ইসরায়েলি বাহিনীর তরফ থেকে গুলি চালানোর খবর পাওয়া যায়। হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং ফিলিস্তিনি মিডিয়া জানিয়েছে, ওই সময় একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।

 

গাজার ফিলিস্তিনিদের উত্তরে তাদের বাড়িঘরে ফেরার ব্যবস্থা করতে কাজ করছে কাতার ও মিসর। কিন্তু ইসরায়েলি সেনারা উপকূলীয় ওই সড়ক অবরোধ করে রেখেছে। এ সড়ক ধরেই হেঁটে গাজার উত্তরে ফেরার অপেক্ষায় আছেন ফিলিস্তিনিরা।

 

ইসরায়েলের হামলায় বিধ্বস্ত গাজা থেকে জর্ডান ও মিসরের আরও ফিলিস্তিনি নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটা কী স্বল্প না দীর্ঘ মেয়াদের জন্য– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে কোনোটাই হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট গাজাকে ‘ডেমোলিশন সাইট’ বা ধ্বংসযজ্ঞের স্থান অ্যাখ্যা দিয়েছেন। এক বছরের বেশি সময়ের যুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনী ভূখণ্ডটির ৪৭ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে; এমন ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, এখন সেখানে ভয়াবহ মানবিক সংকট বিরাজ করছে।

 

ইসরায়েলকে ২ হাজার পাউন্ডের বোমা দেওয়ার বিষয়টি এতদিন আটকে রেখেছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে বাইডেনের সেই বাধা উপেক্ষা করারও নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত আকাশযান এয়ারফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, আমরা সেগুলোকে ছেড়ে দিয়েছি। তারা সেগুলো পেয়ে যাবে। ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, শক্তিশালী এ বোমাগুলো সরবরাহের অনুমতি কেন দিলেন? জবাবে তিনি বলেন, কারণ, তারা সেগুলো কিনেছে।

 

এদিকে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইসরায়েলিদের প্রত্যাহারের সময়সীমা রোববার ভোররাতে পার হয়ে গেলেও দেশটির সেনারা কয়েকটি এলাকায় রয়ে গেছে। ইসরায়েল বলছে, হিজবুল্লাহর সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ায় এমনটি হয়েছে। এ অবস্থায় ওই অঞ্চলে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টাকালে লেবাননের নাগরিকদের ওপর হামলা করেছে দখলদার দেশটি। এতে ১১ জন নিহত এবং ৮৩ জন আহত হয়েছেন। রোববার লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে ইসরায়েলি বর্বরতায় এ পর্যন্ত ৩৮ হাজার শিশু এতিম হয়েছে। বিধবা হয়েছেন ১৪ হাজারের বেশি নারী এবং প্রাণ হারিয়েছে ১৩ হাজার শিশু। গতকাল জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এ কথা জানা গেছে।