ঢাকা , সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইতালি ভিসা প্রত্যাশী ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটঃ ০৫:১৭:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ মার্চ ২০২৫
  • / ৮৭০ বার পঠিত

ইতালি সরকার কে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই প্রধানমন্ত্রী জর্জে মেলানি কে। মেলানি সরকার মানব পাচারকারী মাফিয়া দের বিরুদ্ধে যে কঠিন পদক্ষেপ নিয়েছে সেটা প্রশংসনীয় আপনারা অবগত আছেন ইতিমধ্যে বাংলাদেশ অবস্থিত ইতালি এম্বাসি তে কর্মরত তিন ইতালিয়ানকে ও দুই বাংলাদেশি মাফিয়া ভিসা জালিয়াতির সাথে যুক্ত থাকায় আইনের হেফাজতে বন্দি আছে বাংলাদেশী ইতালি ভিসা প্রত্যাশী ভুক্তভোগী ও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই ইতালি প্রশাসন ও মেলোনি সরকারকে। ইতালি সরকার মানব পাচারকারী ও ভিসা জালিয়াতির সাথে যে বা যারা জড়িত আছে সকলকে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি প্রদান করবে এই আশা রাখি।

 

আজ রোববার (১৬ মার্চ) সকালে ইতালি ভিসা প্রত্যাশীরা জাতীয় প্রেসক্লবে সংবাদ সম্মেলন করেন।

 

তারা আরও বলেন, ভিসা জালিয়াতির বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ও প্রশাসন ইতালি সরকার কে সার্বিক সহযোগিতা করবে। বর্তমান সরকারকে অনুরোধ করবো অতি শীঘ্রই বাংলাদেশে অবস্থানরত ইতালি ভিসা জ্বালিয়াতির সাথে এবং মানব পাচারকারীর সাথে যাহারা যুক্ত আছেন এবং যাদের সম্পৃক্ততা আছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হোক। আমরা আরও জানি বিশ্ব মানবতায় ইতালির ভূমিকা প্রশংসনীয়। আমরা আশা করি ইতালি সরকার মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করে।। এই ভিসা জটিলতা গুরুত্ব সহকারে দেখবেন এবং অতি দ্রুত সময়ে একটি সুন্দর সমাধান দিবেন।

 

এই ভিসা জটিলতা দূরীকরণের মাধ্যমে ইতালি বাংলাদেশের সুসম্পর্ক আরো জোরদার হবে। আমরা ইতালির কৃষি উন্নয়নের অংশীদার হতে চাই। আমরা বাংলাদেশিরা ইতালি কৃষি উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চাই। আমাদের শ্রম মেধা এবং সততা দিয়ে ইতালির কৃষি খাতকে সর্বাধিক উচ্চতরেও অবস্থানে নিতে চাই। ইটালি কর্মী সঙ্কট দূর করনে বাংলাদেশের ভূমিকা থাকবে। ইটালি অবৈধ অভিবাসী রোধে দ্রুত সময় ভিসা প্রধান করার প্রয়োজনীয়তা অপারেসিম। আমরা চাই ইতালি সরকার বাংলাদেশ থেকে সঠিক পথে ভিসার মাধ্যমে কর্মীনিবে। এতে দুই দেশেরই অর্থণীতি ও শ্রমবাজার সচল হবে। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ‘শিগগির ঘুরে দাঁড়াবে। ইতালি ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করতে ইটালি সরকারের সকল পদক্ষেপে সহযোগিতা করবে বাংলাদেশ সরকার।

 

উল্লেখযোগ্য ভিসা জালিয়াতি ও অবৈধ অভিবাসী রোদে বাংলাদেশ সর্বদা ইতালির পাশে থাকবে এবং সার্বিক সহযোগিতা করবে।। অবৈধ পথে বিদেশ গমন নিরুতসাহিত করনে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করবে বাংলাদেশ সরকার।। এরই ধারাবাহিকতায় বৈধ পথে ইতালি গমনকারীদের সার্বিক সহযোগিতা এগিয়ে আসবে ইতালি ও বাংলাদেশ সরকার। স্বল্প সময় ইতালি ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতা করবে ইতালি ইমিগ্রেশন ও এম্বাসি। বিগত দিনের যে ভিসা জটিলতা রয়েছে তা নিরেশনে অতি দ্রুত পদক্ষেপ নেবে ইতালি এম্বাসি। ইতালিয়ান এম্বাসেডর কে বিনীতভাবে অনুরোধ করব। অতি শীঘ্রই ভিসা জটিলতা স্থায়ী সমাধান করবেন। আর কালক্ষেপন না করে অতি সত্য সকল ভুক্তভোগী কে তাদের কাঙ্খিত ফলাফল জানিয়ে দিন। সঠিক ওয়ার্ক পারমিট গুলোতে ভিসা প্রদান করুন।

 

বিশেষ ভাবে অনুরোধ করব ডঃ মোঃ ইউনুস স্যার কে। আপনি আপনি জাতির গর্ব বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী বিশ্ব আপনাকে শান্তির অগ্রদূত হিসেবে জানে। ইতালি ভিসা প্রত্যাশী ভুক্তভোগী লাখো পরিবার আপনার সহযোগিতা কামনা করে। জাতির এই সংকটকালে আপনি যেভাবে দেশের হাল ধরেছেন ইতালির ভিসা প্রত্যাশীদের এ সংকটকালে তাদের হাল ধরুন। আমরা আশাবাদী আপনার হস্তক্ষেপে ভিসা জটিলতার স্থায়ী সমাধান আসবে ইনশাল্লাহ।

 

উপস্থিত ইতালি ভিসা প্রত্যাশী ভুক্তভোগী সহযোদ্ধা ও উপস্থিত সাংবাদিক ভাইয়েরা আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় ভাইয়েরা আপনারা অবগত আছেন যে আমরা ইটালি ভিসা প্রার্থী প্রায় লক্ষাধীক বাংলাদেশের নাগরিক দীর্ঘদুই বছর ধরে ইটালি ভিসা জটিলতায় ভুক্তেছি। এই জটিলতা সমাধানের জন্য সরকারকে বার বার তাগাদ দিছি। আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা বার বার প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন এবং দেশ ও জাতির কাছে আমাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। বিগত সময়ে আমরা নানান কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি যেনো সরকার কুটনৈতিক ভাবে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে দেয়। সেই সমস্ত কর্মসূচির ভিতর ৯ই সেপ্টেম্বর শাহাবুদ্দিন পার্কের কর্মসূচি উল্লেখ যোগ্য। যেখানে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা এবং দেশ প্রেমিক সেনাবাহিনী ও আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে তারা সরকারের সাথে কথা বলে আমাদের সমস্যার সমাধান করে দেবেন। কিন্তু সেই আশ্বাস বাস্তবে কোনো রূপ পায়নি। তার পরে আমরা সকল সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলোতে স্মারক লিপি প্রদান করছি এমন কি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন স্যার এর সাথে সাক্ষাৎ করে সমস্ত বিষয় তুলে ধরছি কিন্তু তিনি ও সমস্যা সমাধান করে দেবেন বলে আশ্বাসেই দিয়েছেন। আজ অব্দি তারা সমস্যার সমাধান করার জন্য দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করে নি।

 

মাননীয় উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন স্যার এর একটা বক্তব্য যে ভিসা দেওয়া না দেওয়া কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়! আমরা এই বক্তব্যর উত্তরে বলতে চাই যে ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া না দেওয়া সেই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়, কিন্তু কোনো দেশের ইমিগ্রেশন থেকে ইস্যু হয়ে যাওয়া ওয়ার্ক পারমিট এর ভিসা দেওয়া না দেওয়া কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। ইটালির আইন অনুসারে ৩ মাস থেকে ৬ মাসের ভিতর ওয়ার্ক পারমিট যাচাই বাঁচাই করে ভিসা দিতে এমবাসি বাধ্য। কিন্তু বাংলাদেশের কুটনৈতিক ব্যর্থতার কারনে আমাদের লক্ষাধীক বাংলাদেশের নাগরিকের পরিবার নিয়ে দুই বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করতেছি। পরিবারের মুখে অন্য তুলে দিতে ব্যার্থ হচ্ছে হাজার হাজার প্রবাস ফেরত ভাইয়েরা যারা ২ বছর আগে ও হাজার হাজার ডলার পাঠিয়ে সচল রাখছিলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চাকা। আমরা কেবল সরকারের মুখে মুখেই শুনতেছি প্রবাসী এবং প্রবাসে যেতে ইচ্ছুক তাদের সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করবেসরকার। কিন্তু সেই কথার বাস্তবতা কখনো বাংলাদেশ দেখেনি।

 

প্রিয় ভাইয়েরা আপনাদের মাধ্যমে দেশ ও সরকারকে জানাতে চাই ভিসা প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা এবং জটিলতার কারণে বাংলাদেশের আবেদন কারিদের যে কতোটা মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে। ইতালি ভিসা আবেদন কারিদের বেশির ভাগই প্রবাস ফেরত যারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছে উন্নত জীবনযাপনের আশায়। ইতালির ওয়ার্ক পারমিট জমা করার পরে ভিসা প্রক্রিয়া বিলম্ব হাওয়ায়। মধ্যপ্রাচের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে সেখানেও আর যেতে পারিনি। এতে চরম ভোগান্তিতে পরে ইতালি ভিসা প্রত্যাশিদের থেকে দুই বছর ধরে বেকার থাকায় মানুষিক চাপ এবং অতিরিক্ত চিন্তার কারনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৬ জন ভাই মারা গেছে এবং আর একজন ভাই আত্মহত্যা করেছে। আত্মহত্যার কারন দীর্ঘ ৬থেকে ৭ বছর বিদেশে ছিলো এবং ইটালির ওয়ার্ক পারমিট পেয়ে ২০২৩ সালের আগষ্ট মাসে পাসপোর্ট সাবমিট করে দের বছর ভিসার জন্য অপেক্ষা করে। জমানো টাকা ও সংসার খরচ করে শেষ। ছেলে মেয়েদের মুখে খাবার তুলে দেওয়াই তার জন্য বড় চ্যালেন্স ছিল। পাওনাদার রা প্রতি নিয়েতো টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করত।

 

আপনারা আরও অবগত আছেন যে, ইতালিতে কাজের জন্য আবেদন করে বছরের পর বছরঅপেক্ষা করছেন। এই দীর্ঘ অপেক্ষা সহ্য করতে না পেরে অনেকেই অবৈধ পথে, বিশেষত লিবিয়া হয়ে, ইতালি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ২০১৪-২০২৪ পর্যন্ত প্রায় ১,২০০ বাংলাদেশি সাগর পথে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের অধিকাংশই নৌকা ডুবে বা অন্যান্য দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। আইওএম এবং মেডিটারেনিয়ান শিপিং এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে সাগর পথে মৃত্যু ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভিসা প্রক্রিয়ার দ্রুত নিষ্পত্তি হলে এই মানবিক বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব হতে পারে। আপনারা অবগত আছেন ইউরোপে বর্তমানে কর্মী সংকট আমরা চাই অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে ভিসা নিয়ে সঠিক পথে ইউরোপ গমন করতে।

 

প্রিয় ভাইয়েরা আপনার অবগত আছেন আমরা ইতালি ভিসা প্রত্যাশী অধিকাংশ কর্মী কৃষি ভিষার অন্তর্ভুক্ত। আমাদের ওয়ার্ক পারমিট যে কোম্পানি বা মালিকের প্রজেক্টে অন্তর্ভুক্ত আমাদের ভিসা বিলম্ব হওয়ায় তারা অন্য দেশ থেকে কর্মী নিচ্ছে। পরবর্তী সময় গুলোতেও তাদের কর্মী প্রয়োজন হলে অন্য দেশ থেকে কর্মী নিবে এই ভিসা বিলম্ব চলতে থাকলে ইউরোপের কর্মী পাঠানো ব্যাপক হারে ব্যাঘাত ঘটবে তার প্রভাব পড়বে বাংলাদেশ অর্থনীতিতে এবং বাংলাদেশের বেকারত্বের হার দিন দিন বাড়বে ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বেকারত্ব জীবনে মানুষ বিভিন্ন দেশবিরোধী কাজের সাথে জড়িয়ে পড়ে এবং মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে এতে করে ছিনতাই চুরি ডাকাতি ও ধর্ষণের আশঙ্কা দিন দিন বৃদ্ধি পাবে। সঠিক সময় বাংলাদেশী কর্মী ভিসা না পাওয়ায় এবং ইতালি কর্মস্থলে না পৌঁছানোর কারণে ইতালিয়ান কোম্পানিগুলো এশিয়ার অন্য সব দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বৃদ্ধি করতেছে।

 

বাংলাদেশের এই ব্যর্থতায় পার্শ্ববর্তী দেশগুলো লাভবান হচ্ছে তাদের কর্মী পাঠিয়ে তাদের অর্থনীতি বৃদ্ধি করছে আমরা আশঙ্কা ভিসা সংকটে পার্শ্বরর্তী দেশের ষ্যদয়ন্ত্র থাকতে পারে কারণ এর সাথে তাদের রেমিডেন্সবৃদ্ধি অর্থনীতি বিভিন্ন দিক জড়িত আছে। আমরা ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস স্যারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেছি, স্যার আপনি অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে ভিসা জটিলতা সমাধানে এগিয়ে আসুন। তা না হলে দেশের অর্থনীতি থোবরে পড়বে যা আমাদের দেশ ও জাতির জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় নিয়ে আসবে। ইতালি ভিসা প্রত্যাশী লক্ষাদিক ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার আপনার দিকে তাকিয়ে আছে। আমাদের ধারণা বর্তমান সময়ে এই সংকট এক মাত্র আপনি সমাধান করতে পারেন। আপনার এক একটি হস্তক্ষেপে লক্ষাদিক পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে পারে ও বেকারদের কর্মসংস্থান হবে। আত্মসম্মান পূর্ণ একটা জীবন ফিরে পাবে। আমাদের এই বিভাসিকাময় দুঃসহ জীবন থেকে মুক্তি দিতে পারে আপনার একটি হস্তক্ষেপ। তাই বিনীত অনুরোধ দয়া করে আমাদের ভিসা জটিলতা দূরীকরণের ব্যবস্থা করুন অতি দ্রুত সময়ে।

 

উপস্থিত ইতালি ভিসা প্রত্যাশী ভুক্তভোগী সহকর্মী ও গণমাধ্যম কর্মী সাংবাদিক ভাইয়েরা। আসসালামু আলাইকুম।। প্রিয় ভাইয়েরা আপনারা লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন যে ভিসা জটিলতায় ভুগছে বাংলাদেশের নাগরিক। সেইখানে ইটালি থেকে নিজ ইচ্ছায় ইটালির ভাইস মিনিস্টার বাংলাদেশ সফরে আসে কিন্তু আমাদের বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি দল এখন অবধি ভিসা জটিলতা সমাধানের লক্ষ্যে ইটালি সফরে যেতে পারেন নি। এর থেকে বড় কুটনৈতিক ব্যার্থতার প্রমাণ আমরা কি দেবো?? আমরা আর এই ব্যর্থ কুটনৈতিক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপর বিশ্বাস রাখতে পারছিনা। আমরা আমাদের ভরসার স্থান মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মোঃ ইউনূস স্যার এর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। যার সম্মানে আমরা ৯অক্টবর প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাক্ষান করেছিলাম। সেদিন আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে আমরা কর্মসূচী থেকে ফিরে এসেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে কোনওফল পাইনি। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে আমরা মনে করছি যে, তারা আমাদের লক্ষ পরিবারের এই সমস্যাটাকে আমলে নেননি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রবাসীদের সমস্যাকে এদেশে সবসময়ই তাচ্ছিল্যের সাথে বিবেচনা করা হয়, যা মোটেই কাম্য নয়। তাই আমাদের প্রত্যাশা ও দাবী বর্তমান সরকার প্রবাসীদের সমস্যাকে গুরুত্বের সাথে দেখবেন।

 

আমারা মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মোঃ ইউনূস স্যারকে শুধুমাত্র একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দেখিনা, তিনি হচ্ছেন বিশ্বের নোবেল জয়ী এবং ওয়ার্ল্ড সেলিব্রেটি। আমরা জানি প্রবাসীদের নিয়ে তিনি অত্যন্ত মানবিক এবং কিভাবে রেমিটেন্স দ্বারা দেশকে উন্নত করা যায় সেই ব্যাপারে তিনি অবগত। তিনি আমাদের দেশের গর্ব, তাই আমরা তার মাধ্যমেই আমাদের এই দুই বছর যাবৎ অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান করতে চাই। স্যার আপনি মানবিক সরকারের প্রধান, দয়া করে আমাদের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করুন। আমাদের লক্ষাধীক ভিসা প্রত্যাশীর দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ওয়ার্ক পারমিট দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহন করুন। আপনি বলেছেন যেকোনও কর্মসূচি পালন করার আগে আপনাকে সমস্যার কথা গুলো এবং দাবিগুলো জানাই, সেগুলো যদি যৌক্তিক দাবি হয়, আর সেই দাবি পুরন না করলে তখন আন্দোলন করতে বলেছেন। সে জন্য আজকে আমরা সংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ভাবে আপনার এর কাছে আমাদের সমস্যা এবং দাবির কথা তুলে ধরছি, যা আগামী ১৫ কর্মদিবস এর মধ্যে বাস্তবায়ন না করলে আমরা প্রবাসি ভাইদের নিয়ে এমন ভয়ংকর কর্মসূচি পালন করবো যার প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতির উপর কঠিনভাবে পরবে। আমরা দেশপ্রেমিক এবং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে কখনোই তা চাই না।কিন্তু যদি আমাদেরকে বাধ্য করা হয় তাহলে সেই কর্মসূচিতে সহযোগিতা করবে আমাদের প্রবাসি ভাইয়েরা।

 

প্রবাসিদের কর্মসূচির ভয়াবহতা কি হতে পারে তা ২৪ এর গণআন্দোলনের স্বৈরাচার সরকার কে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।প্রবাসীদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করিয়েন না আবারো স্মরণ করিয়ে দেই। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সব থেকে বড় অবদান প্রবাসীদের। বাংলাদেশের প্রবাসী কমিউনিটি আমাদের সাথে কথা বলেছে, তারা আমাদের এই দুঃসময়ে সহযোগিতা করতে চায়। সরকার দ্রুত সময়ে ইতালি ভিসা সঙ্কট নিরসনে জরুরী পদক্ষেপ না নিলে রেমিট্যান্স শাট ডাউন কর্মসূচি দিবে তারা এবং আমরা লক্ষাধিক ভুক্তভোগী এবং তাদের পরিবারকে সাথে নিয়ে আমরন অবস্থান কর্মসূচী পালন করবো।

 

১) অতি দ্রুত ডক্টর মোঃ ইউনূস স্যাত্রের উপস্থিতিতে ইটালি এম্বাসেডরকে আমন্ত্রণ জানাতে হবে এবং তাকে অনুরোধ করতে হবে যেন অতিদ্রুত ২০২৩ সাল থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে ১ মাসের ভিতর দ্রুত যাচাই বাঁচাই শেষ করে এবং সঠিক ওয়ার্ক পারমিটে ভিসা প্রদান করে এবং জাল গুলোকে রিজেক্ট করে দেয়। এটা এম্বাসেডরকে প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।

 

২) ইটালি এম্বাসেডর কারন দেখিয়ে অপারগতা প্রকাশ করলে প্রয়োজনে ইটালি সফরের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ইটালির প্রধানমন্ত্রী সহ ইটালির পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে মিটিং করে ভিসার যতো প্রকার জটিলতা আছে সমাধান করতে হবে। আমরা সকল ভুক্তভোগীরা মনে করি এমন কোনো জটিলতা নাই যার কোনো সমাধান নাই। এই কুটনৈতিক সমস্যা কুটনৈতিক ভাবে সমাধান করা সম্ভব। দরকার সমাধানের জন্য সঠিক উদ্যোগ গ্রহণ করা। আমাদের জন্য সরকার কাজ করবে সেই আশা রাখতেছি প্রধান উপদেষ্টার উপর। আমরা কোন প্রকার রোড ব্লক অথবা আন্দোলন মানববন্ধন চাইনা। আমরা চাই শুধুমাত্র সুষ্ঠু সমাধান।আমি বাংলাদেশ সরকার কে জানিয়ে দিতে চাই, যেখানে পাকিস্তান, শ্রীলংকা এবং বাংলাদেশের ওয়ার্ক পারমিট এর বৈধতা একসাথে স্থগিত করছে সেখানে পাকিস্তান আর শ্রীলঙ্কার ব্যাকলক শেষ করে নতুন করে এপয়মেন্ট এবং জমা দুটি এই চলতেছে। তারা দুই দেশের কুটনৈতিক তৎপরতার কারনে সমস্যার সমাধান করে ফেলছে। সেখানে আমাদের বাংলাদেশ এখনো পারলো না কেনো? এই সমস্যা টা শুধু আমরা যারা ভিসা প্রার্থী শুধু তাদের এই নয়! এই সমস্যা পুরো বাংলাদেশের। এই সমস্যার জন্য পুরো বাংলাদেশে ক্ষতি গ্রস্ত।

 

আজকের সংবাদ সম্মেলনের পরে অবশ্যই প্রধান উপদেষ্টা অথবা তার প্রেস সচিবের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য তাদের পদক্ষেপ জানিয়ে দিবেন

অর্থআদালতডটকম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার হতে বিরত থাকুন।

ইতালি ভিসা প্রত্যাশী ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

আপডেটঃ ০৫:১৭:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ মার্চ ২০২৫

ইতালি সরকার কে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই প্রধানমন্ত্রী জর্জে মেলানি কে। মেলানি সরকার মানব পাচারকারী মাফিয়া দের বিরুদ্ধে যে কঠিন পদক্ষেপ নিয়েছে সেটা প্রশংসনীয় আপনারা অবগত আছেন ইতিমধ্যে বাংলাদেশ অবস্থিত ইতালি এম্বাসি তে কর্মরত তিন ইতালিয়ানকে ও দুই বাংলাদেশি মাফিয়া ভিসা জালিয়াতির সাথে যুক্ত থাকায় আইনের হেফাজতে বন্দি আছে বাংলাদেশী ইতালি ভিসা প্রত্যাশী ভুক্তভোগী ও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই ইতালি প্রশাসন ও মেলোনি সরকারকে। ইতালি সরকার মানব পাচারকারী ও ভিসা জালিয়াতির সাথে যে বা যারা জড়িত আছে সকলকে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি প্রদান করবে এই আশা রাখি।

 

আজ রোববার (১৬ মার্চ) সকালে ইতালি ভিসা প্রত্যাশীরা জাতীয় প্রেসক্লবে সংবাদ সম্মেলন করেন।

 

তারা আরও বলেন, ভিসা জালিয়াতির বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ও প্রশাসন ইতালি সরকার কে সার্বিক সহযোগিতা করবে। বর্তমান সরকারকে অনুরোধ করবো অতি শীঘ্রই বাংলাদেশে অবস্থানরত ইতালি ভিসা জ্বালিয়াতির সাথে এবং মানব পাচারকারীর সাথে যাহারা যুক্ত আছেন এবং যাদের সম্পৃক্ততা আছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হোক। আমরা আরও জানি বিশ্ব মানবতায় ইতালির ভূমিকা প্রশংসনীয়। আমরা আশা করি ইতালি সরকার মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করে।। এই ভিসা জটিলতা গুরুত্ব সহকারে দেখবেন এবং অতি দ্রুত সময়ে একটি সুন্দর সমাধান দিবেন।

 

এই ভিসা জটিলতা দূরীকরণের মাধ্যমে ইতালি বাংলাদেশের সুসম্পর্ক আরো জোরদার হবে। আমরা ইতালির কৃষি উন্নয়নের অংশীদার হতে চাই। আমরা বাংলাদেশিরা ইতালি কৃষি উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চাই। আমাদের শ্রম মেধা এবং সততা দিয়ে ইতালির কৃষি খাতকে সর্বাধিক উচ্চতরেও অবস্থানে নিতে চাই। ইটালি কর্মী সঙ্কট দূর করনে বাংলাদেশের ভূমিকা থাকবে। ইটালি অবৈধ অভিবাসী রোধে দ্রুত সময় ভিসা প্রধান করার প্রয়োজনীয়তা অপারেসিম। আমরা চাই ইতালি সরকার বাংলাদেশ থেকে সঠিক পথে ভিসার মাধ্যমে কর্মীনিবে। এতে দুই দেশেরই অর্থণীতি ও শ্রমবাজার সচল হবে। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ‘শিগগির ঘুরে দাঁড়াবে। ইতালি ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করতে ইটালি সরকারের সকল পদক্ষেপে সহযোগিতা করবে বাংলাদেশ সরকার।

 

উল্লেখযোগ্য ভিসা জালিয়াতি ও অবৈধ অভিবাসী রোদে বাংলাদেশ সর্বদা ইতালির পাশে থাকবে এবং সার্বিক সহযোগিতা করবে।। অবৈধ পথে বিদেশ গমন নিরুতসাহিত করনে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করবে বাংলাদেশ সরকার।। এরই ধারাবাহিকতায় বৈধ পথে ইতালি গমনকারীদের সার্বিক সহযোগিতা এগিয়ে আসবে ইতালি ও বাংলাদেশ সরকার। স্বল্প সময় ইতালি ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতা করবে ইতালি ইমিগ্রেশন ও এম্বাসি। বিগত দিনের যে ভিসা জটিলতা রয়েছে তা নিরেশনে অতি দ্রুত পদক্ষেপ নেবে ইতালি এম্বাসি। ইতালিয়ান এম্বাসেডর কে বিনীতভাবে অনুরোধ করব। অতি শীঘ্রই ভিসা জটিলতা স্থায়ী সমাধান করবেন। আর কালক্ষেপন না করে অতি সত্য সকল ভুক্তভোগী কে তাদের কাঙ্খিত ফলাফল জানিয়ে দিন। সঠিক ওয়ার্ক পারমিট গুলোতে ভিসা প্রদান করুন।

 

বিশেষ ভাবে অনুরোধ করব ডঃ মোঃ ইউনুস স্যার কে। আপনি আপনি জাতির গর্ব বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী বিশ্ব আপনাকে শান্তির অগ্রদূত হিসেবে জানে। ইতালি ভিসা প্রত্যাশী ভুক্তভোগী লাখো পরিবার আপনার সহযোগিতা কামনা করে। জাতির এই সংকটকালে আপনি যেভাবে দেশের হাল ধরেছেন ইতালির ভিসা প্রত্যাশীদের এ সংকটকালে তাদের হাল ধরুন। আমরা আশাবাদী আপনার হস্তক্ষেপে ভিসা জটিলতার স্থায়ী সমাধান আসবে ইনশাল্লাহ।

 

উপস্থিত ইতালি ভিসা প্রত্যাশী ভুক্তভোগী সহযোদ্ধা ও উপস্থিত সাংবাদিক ভাইয়েরা আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় ভাইয়েরা আপনারা অবগত আছেন যে আমরা ইটালি ভিসা প্রার্থী প্রায় লক্ষাধীক বাংলাদেশের নাগরিক দীর্ঘদুই বছর ধরে ইটালি ভিসা জটিলতায় ভুক্তেছি। এই জটিলতা সমাধানের জন্য সরকারকে বার বার তাগাদ দিছি। আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা বার বার প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন এবং দেশ ও জাতির কাছে আমাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। বিগত সময়ে আমরা নানান কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি যেনো সরকার কুটনৈতিক ভাবে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে দেয়। সেই সমস্ত কর্মসূচির ভিতর ৯ই সেপ্টেম্বর শাহাবুদ্দিন পার্কের কর্মসূচি উল্লেখ যোগ্য। যেখানে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা এবং দেশ প্রেমিক সেনাবাহিনী ও আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে তারা সরকারের সাথে কথা বলে আমাদের সমস্যার সমাধান করে দেবেন। কিন্তু সেই আশ্বাস বাস্তবে কোনো রূপ পায়নি। তার পরে আমরা সকল সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলোতে স্মারক লিপি প্রদান করছি এমন কি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন স্যার এর সাথে সাক্ষাৎ করে সমস্ত বিষয় তুলে ধরছি কিন্তু তিনি ও সমস্যা সমাধান করে দেবেন বলে আশ্বাসেই দিয়েছেন। আজ অব্দি তারা সমস্যার সমাধান করার জন্য দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করে নি।

 

মাননীয় উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন স্যার এর একটা বক্তব্য যে ভিসা দেওয়া না দেওয়া কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়! আমরা এই বক্তব্যর উত্তরে বলতে চাই যে ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া না দেওয়া সেই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়, কিন্তু কোনো দেশের ইমিগ্রেশন থেকে ইস্যু হয়ে যাওয়া ওয়ার্ক পারমিট এর ভিসা দেওয়া না দেওয়া কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। ইটালির আইন অনুসারে ৩ মাস থেকে ৬ মাসের ভিতর ওয়ার্ক পারমিট যাচাই বাঁচাই করে ভিসা দিতে এমবাসি বাধ্য। কিন্তু বাংলাদেশের কুটনৈতিক ব্যর্থতার কারনে আমাদের লক্ষাধীক বাংলাদেশের নাগরিকের পরিবার নিয়ে দুই বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করতেছি। পরিবারের মুখে অন্য তুলে দিতে ব্যার্থ হচ্ছে হাজার হাজার প্রবাস ফেরত ভাইয়েরা যারা ২ বছর আগে ও হাজার হাজার ডলার পাঠিয়ে সচল রাখছিলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চাকা। আমরা কেবল সরকারের মুখে মুখেই শুনতেছি প্রবাসী এবং প্রবাসে যেতে ইচ্ছুক তাদের সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করবেসরকার। কিন্তু সেই কথার বাস্তবতা কখনো বাংলাদেশ দেখেনি।

 

প্রিয় ভাইয়েরা আপনাদের মাধ্যমে দেশ ও সরকারকে জানাতে চাই ভিসা প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা এবং জটিলতার কারণে বাংলাদেশের আবেদন কারিদের যে কতোটা মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে। ইতালি ভিসা আবেদন কারিদের বেশির ভাগই প্রবাস ফেরত যারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছে উন্নত জীবনযাপনের আশায়। ইতালির ওয়ার্ক পারমিট জমা করার পরে ভিসা প্রক্রিয়া বিলম্ব হাওয়ায়। মধ্যপ্রাচের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে সেখানেও আর যেতে পারিনি। এতে চরম ভোগান্তিতে পরে ইতালি ভিসা প্রত্যাশিদের থেকে দুই বছর ধরে বেকার থাকায় মানুষিক চাপ এবং অতিরিক্ত চিন্তার কারনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৬ জন ভাই মারা গেছে এবং আর একজন ভাই আত্মহত্যা করেছে। আত্মহত্যার কারন দীর্ঘ ৬থেকে ৭ বছর বিদেশে ছিলো এবং ইটালির ওয়ার্ক পারমিট পেয়ে ২০২৩ সালের আগষ্ট মাসে পাসপোর্ট সাবমিট করে দের বছর ভিসার জন্য অপেক্ষা করে। জমানো টাকা ও সংসার খরচ করে শেষ। ছেলে মেয়েদের মুখে খাবার তুলে দেওয়াই তার জন্য বড় চ্যালেন্স ছিল। পাওনাদার রা প্রতি নিয়েতো টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করত।

 

আপনারা আরও অবগত আছেন যে, ইতালিতে কাজের জন্য আবেদন করে বছরের পর বছরঅপেক্ষা করছেন। এই দীর্ঘ অপেক্ষা সহ্য করতে না পেরে অনেকেই অবৈধ পথে, বিশেষত লিবিয়া হয়ে, ইতালি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ২০১৪-২০২৪ পর্যন্ত প্রায় ১,২০০ বাংলাদেশি সাগর পথে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের অধিকাংশই নৌকা ডুবে বা অন্যান্য দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। আইওএম এবং মেডিটারেনিয়ান শিপিং এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে সাগর পথে মৃত্যু ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভিসা প্রক্রিয়ার দ্রুত নিষ্পত্তি হলে এই মানবিক বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব হতে পারে। আপনারা অবগত আছেন ইউরোপে বর্তমানে কর্মী সংকট আমরা চাই অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে ভিসা নিয়ে সঠিক পথে ইউরোপ গমন করতে।

 

প্রিয় ভাইয়েরা আপনার অবগত আছেন আমরা ইতালি ভিসা প্রত্যাশী অধিকাংশ কর্মী কৃষি ভিষার অন্তর্ভুক্ত। আমাদের ওয়ার্ক পারমিট যে কোম্পানি বা মালিকের প্রজেক্টে অন্তর্ভুক্ত আমাদের ভিসা বিলম্ব হওয়ায় তারা অন্য দেশ থেকে কর্মী নিচ্ছে। পরবর্তী সময় গুলোতেও তাদের কর্মী প্রয়োজন হলে অন্য দেশ থেকে কর্মী নিবে এই ভিসা বিলম্ব চলতে থাকলে ইউরোপের কর্মী পাঠানো ব্যাপক হারে ব্যাঘাত ঘটবে তার প্রভাব পড়বে বাংলাদেশ অর্থনীতিতে এবং বাংলাদেশের বেকারত্বের হার দিন দিন বাড়বে ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বেকারত্ব জীবনে মানুষ বিভিন্ন দেশবিরোধী কাজের সাথে জড়িয়ে পড়ে এবং মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে এতে করে ছিনতাই চুরি ডাকাতি ও ধর্ষণের আশঙ্কা দিন দিন বৃদ্ধি পাবে। সঠিক সময় বাংলাদেশী কর্মী ভিসা না পাওয়ায় এবং ইতালি কর্মস্থলে না পৌঁছানোর কারণে ইতালিয়ান কোম্পানিগুলো এশিয়ার অন্য সব দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বৃদ্ধি করতেছে।

 

বাংলাদেশের এই ব্যর্থতায় পার্শ্ববর্তী দেশগুলো লাভবান হচ্ছে তাদের কর্মী পাঠিয়ে তাদের অর্থনীতি বৃদ্ধি করছে আমরা আশঙ্কা ভিসা সংকটে পার্শ্বরর্তী দেশের ষ্যদয়ন্ত্র থাকতে পারে কারণ এর সাথে তাদের রেমিডেন্সবৃদ্ধি অর্থনীতি বিভিন্ন দিক জড়িত আছে। আমরা ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস স্যারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেছি, স্যার আপনি অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে ভিসা জটিলতা সমাধানে এগিয়ে আসুন। তা না হলে দেশের অর্থনীতি থোবরে পড়বে যা আমাদের দেশ ও জাতির জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় নিয়ে আসবে। ইতালি ভিসা প্রত্যাশী লক্ষাদিক ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার আপনার দিকে তাকিয়ে আছে। আমাদের ধারণা বর্তমান সময়ে এই সংকট এক মাত্র আপনি সমাধান করতে পারেন। আপনার এক একটি হস্তক্ষেপে লক্ষাদিক পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে পারে ও বেকারদের কর্মসংস্থান হবে। আত্মসম্মান পূর্ণ একটা জীবন ফিরে পাবে। আমাদের এই বিভাসিকাময় দুঃসহ জীবন থেকে মুক্তি দিতে পারে আপনার একটি হস্তক্ষেপ। তাই বিনীত অনুরোধ দয়া করে আমাদের ভিসা জটিলতা দূরীকরণের ব্যবস্থা করুন অতি দ্রুত সময়ে।

 

উপস্থিত ইতালি ভিসা প্রত্যাশী ভুক্তভোগী সহকর্মী ও গণমাধ্যম কর্মী সাংবাদিক ভাইয়েরা। আসসালামু আলাইকুম।। প্রিয় ভাইয়েরা আপনারা লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন যে ভিসা জটিলতায় ভুগছে বাংলাদেশের নাগরিক। সেইখানে ইটালি থেকে নিজ ইচ্ছায় ইটালির ভাইস মিনিস্টার বাংলাদেশ সফরে আসে কিন্তু আমাদের বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি দল এখন অবধি ভিসা জটিলতা সমাধানের লক্ষ্যে ইটালি সফরে যেতে পারেন নি। এর থেকে বড় কুটনৈতিক ব্যার্থতার প্রমাণ আমরা কি দেবো?? আমরা আর এই ব্যর্থ কুটনৈতিক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপর বিশ্বাস রাখতে পারছিনা। আমরা আমাদের ভরসার স্থান মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মোঃ ইউনূস স্যার এর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। যার সম্মানে আমরা ৯অক্টবর প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাক্ষান করেছিলাম। সেদিন আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে আমরা কর্মসূচী থেকে ফিরে এসেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে কোনওফল পাইনি। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে আমরা মনে করছি যে, তারা আমাদের লক্ষ পরিবারের এই সমস্যাটাকে আমলে নেননি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রবাসীদের সমস্যাকে এদেশে সবসময়ই তাচ্ছিল্যের সাথে বিবেচনা করা হয়, যা মোটেই কাম্য নয়। তাই আমাদের প্রত্যাশা ও দাবী বর্তমান সরকার প্রবাসীদের সমস্যাকে গুরুত্বের সাথে দেখবেন।

 

আমারা মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মোঃ ইউনূস স্যারকে শুধুমাত্র একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দেখিনা, তিনি হচ্ছেন বিশ্বের নোবেল জয়ী এবং ওয়ার্ল্ড সেলিব্রেটি। আমরা জানি প্রবাসীদের নিয়ে তিনি অত্যন্ত মানবিক এবং কিভাবে রেমিটেন্স দ্বারা দেশকে উন্নত করা যায় সেই ব্যাপারে তিনি অবগত। তিনি আমাদের দেশের গর্ব, তাই আমরা তার মাধ্যমেই আমাদের এই দুই বছর যাবৎ অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান করতে চাই। স্যার আপনি মানবিক সরকারের প্রধান, দয়া করে আমাদের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করুন। আমাদের লক্ষাধীক ভিসা প্রত্যাশীর দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ওয়ার্ক পারমিট দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহন করুন। আপনি বলেছেন যেকোনও কর্মসূচি পালন করার আগে আপনাকে সমস্যার কথা গুলো এবং দাবিগুলো জানাই, সেগুলো যদি যৌক্তিক দাবি হয়, আর সেই দাবি পুরন না করলে তখন আন্দোলন করতে বলেছেন। সে জন্য আজকে আমরা সংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ভাবে আপনার এর কাছে আমাদের সমস্যা এবং দাবির কথা তুলে ধরছি, যা আগামী ১৫ কর্মদিবস এর মধ্যে বাস্তবায়ন না করলে আমরা প্রবাসি ভাইদের নিয়ে এমন ভয়ংকর কর্মসূচি পালন করবো যার প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতির উপর কঠিনভাবে পরবে। আমরা দেশপ্রেমিক এবং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে কখনোই তা চাই না।কিন্তু যদি আমাদেরকে বাধ্য করা হয় তাহলে সেই কর্মসূচিতে সহযোগিতা করবে আমাদের প্রবাসি ভাইয়েরা।

 

প্রবাসিদের কর্মসূচির ভয়াবহতা কি হতে পারে তা ২৪ এর গণআন্দোলনের স্বৈরাচার সরকার কে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।প্রবাসীদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করিয়েন না আবারো স্মরণ করিয়ে দেই। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সব থেকে বড় অবদান প্রবাসীদের। বাংলাদেশের প্রবাসী কমিউনিটি আমাদের সাথে কথা বলেছে, তারা আমাদের এই দুঃসময়ে সহযোগিতা করতে চায়। সরকার দ্রুত সময়ে ইতালি ভিসা সঙ্কট নিরসনে জরুরী পদক্ষেপ না নিলে রেমিট্যান্স শাট ডাউন কর্মসূচি দিবে তারা এবং আমরা লক্ষাধিক ভুক্তভোগী এবং তাদের পরিবারকে সাথে নিয়ে আমরন অবস্থান কর্মসূচী পালন করবো।

 

১) অতি দ্রুত ডক্টর মোঃ ইউনূস স্যাত্রের উপস্থিতিতে ইটালি এম্বাসেডরকে আমন্ত্রণ জানাতে হবে এবং তাকে অনুরোধ করতে হবে যেন অতিদ্রুত ২০২৩ সাল থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে ১ মাসের ভিতর দ্রুত যাচাই বাঁচাই শেষ করে এবং সঠিক ওয়ার্ক পারমিটে ভিসা প্রদান করে এবং জাল গুলোকে রিজেক্ট করে দেয়। এটা এম্বাসেডরকে প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।

 

২) ইটালি এম্বাসেডর কারন দেখিয়ে অপারগতা প্রকাশ করলে প্রয়োজনে ইটালি সফরের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ইটালির প্রধানমন্ত্রী সহ ইটালির পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে মিটিং করে ভিসার যতো প্রকার জটিলতা আছে সমাধান করতে হবে। আমরা সকল ভুক্তভোগীরা মনে করি এমন কোনো জটিলতা নাই যার কোনো সমাধান নাই। এই কুটনৈতিক সমস্যা কুটনৈতিক ভাবে সমাধান করা সম্ভব। দরকার সমাধানের জন্য সঠিক উদ্যোগ গ্রহণ করা। আমাদের জন্য সরকার কাজ করবে সেই আশা রাখতেছি প্রধান উপদেষ্টার উপর। আমরা কোন প্রকার রোড ব্লক অথবা আন্দোলন মানববন্ধন চাইনা। আমরা চাই শুধুমাত্র সুষ্ঠু সমাধান।আমি বাংলাদেশ সরকার কে জানিয়ে দিতে চাই, যেখানে পাকিস্তান, শ্রীলংকা এবং বাংলাদেশের ওয়ার্ক পারমিট এর বৈধতা একসাথে স্থগিত করছে সেখানে পাকিস্তান আর শ্রীলঙ্কার ব্যাকলক শেষ করে নতুন করে এপয়মেন্ট এবং জমা দুটি এই চলতেছে। তারা দুই দেশের কুটনৈতিক তৎপরতার কারনে সমস্যার সমাধান করে ফেলছে। সেখানে আমাদের বাংলাদেশ এখনো পারলো না কেনো? এই সমস্যা টা শুধু আমরা যারা ভিসা প্রার্থী শুধু তাদের এই নয়! এই সমস্যা পুরো বাংলাদেশের। এই সমস্যার জন্য পুরো বাংলাদেশে ক্ষতি গ্রস্ত।

 

আজকের সংবাদ সম্মেলনের পরে অবশ্যই প্রধান উপদেষ্টা অথবা তার প্রেস সচিবের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য তাদের পদক্ষেপ জানিয়ে দিবেন