ঢাকা , শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান-ইসরাইল দীর্ঘমেয়াদি সংঘর্ষে জড়াতে পারে

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটঃ ০৬:০৩:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫
  • / ৮৩৯ বার পঠিত

ইসরাইলের দুই শতাধিক যুদ্ধবিমান দিয়ে চালানো আকস্মিক হামলায় শুক্রবার ভোররাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান ও আইআরজিসি প্রধানসহ মারা গেছেন অন্তত ৬ পরমাণু বিজ্ঞানী। ইরানের অভ্যন্তরে থেকে ইসরাইলের গোয়েন্দা বাহিনীর কূটকৌশলের কারণে যুদ্ধবিমান ঠেকাতে পারেনি তেহরান। তবে ঠিকই এর জবাব দিয়েছে ইরান। এ ঘটনার ২৪ ঘণ্টা না যেতেই তেলআবিবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। দাবি করছে ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোমকে পরাজিত করার। যা প্রমাণ করে এ যুদ্ধে ইরানের সামর্থ্য।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-ইসরাইল সংঘর্ষের ভয়াবহতা নির্ভর করবে প্রধানত দুটো বিষয়ের ওপর। ইরান কতটা শক্তি নিয়ে কীভাবে শোধ নেবে এবং ইসরাইলের ওপর কতটুকু নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র ধরে রাখবে। তবে, কোন কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সর্বাত্মক না হলেও দীর্ঘমেয়াদি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে দুই দেশ।

 

ইরানের ওপর যে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল, তা নজিরবিহীন। শুরু থেকেই ইরানের দৃঢ় বিশ্বাস, যুক্তরাষ্ট্রের মদদেই এই হামলা চালিয়েছে তারা। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তাদের কাছে হামলার কোন খবর ছিলো না। তবে ইরান বলেছে, ইসরাইলের হামলা মানেই এর পেছনে সায় থাকবে আমেরিকার।

 

তবে, চলমান সংঘাত নিয়ন্ত্রণ হারালে ইরাক, গালফসহ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি ও কূটনৈতিক মিশনে হামলা চালাতে পারে তেহরান। এরিমধ্য সেই হুঁশিয়ারিও দিয়েছে দেশটি। এতে, ইসরাইল বা মধ্যপ্রাচ্যে কোনও মার্কিন বা পশ্চিমা দেশের কেউ ইরানের হামলায় মারা গেলে, এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

 

এছাড়া, ইসরাইলের সাথে এই সংঘর্ষের জেরে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলো মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে যেতে পারে। এই দেশগুলোতে মার্কিন বিমানঘাঁটি যেমন রয়েছে তেমনি কয়েকটি দেশ গতবছর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে ইসরাইলকে গোপনে সাহায্য করেছে বলেও শোনা যায়।

 

যদি ইরান এই দেশগুলোতে হামলা চালিয়ে বসে, তবে নিরাপত্তার জন্য তারাই যুদ্ধবিমান নিয়ে মার্কিন বাহিনীকে আসার জন্য আহ্বান জানাবে।

 

এই সংঘাত আরও বৃদ্ধি পেলে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে আরও বেপরোয়া হতে পারে ইরান। দেশটির কাছে কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধকৃত চারশ’ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে। শনিবার হামলার পর এক ইসরাইলি এক কর্মী দাবি করেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই অন্তত ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করে ফেলতো ইরান।

 

ইরান যদি অস্তিত্ব রক্ষার জন্য একমাত্র উপায় হিসেবে পারমাণবিক বোমা বানানোই সমাধান মনে করে, সেক্ষেত্রে ইরানের পারমাণবিক শক্তি হয়ে ওঠার পেছনে অন্যতম প্রভাবক হবে ১৩ জুনের ইসরাইলি হামলা। ইসরাইলি হামলার লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা গুড়িয়ে দেয়া। তবে, সেটা নাহলে নিয়মিতভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে যেতে পারে ইসরাইল, যেন তারা কখনই পারমাণবিক অবকাঠামো পুরোপুরি গড়ে তুলতে না পারে।

অর্থআদালতডটকম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার হতে বিরত থাকুন।

ইরান-ইসরাইল দীর্ঘমেয়াদি সংঘর্ষে জড়াতে পারে

আপডেটঃ ০৬:০৩:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫

ইসরাইলের দুই শতাধিক যুদ্ধবিমান দিয়ে চালানো আকস্মিক হামলায় শুক্রবার ভোররাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান ও আইআরজিসি প্রধানসহ মারা গেছেন অন্তত ৬ পরমাণু বিজ্ঞানী। ইরানের অভ্যন্তরে থেকে ইসরাইলের গোয়েন্দা বাহিনীর কূটকৌশলের কারণে যুদ্ধবিমান ঠেকাতে পারেনি তেহরান। তবে ঠিকই এর জবাব দিয়েছে ইরান। এ ঘটনার ২৪ ঘণ্টা না যেতেই তেলআবিবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। দাবি করছে ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোমকে পরাজিত করার। যা প্রমাণ করে এ যুদ্ধে ইরানের সামর্থ্য।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-ইসরাইল সংঘর্ষের ভয়াবহতা নির্ভর করবে প্রধানত দুটো বিষয়ের ওপর। ইরান কতটা শক্তি নিয়ে কীভাবে শোধ নেবে এবং ইসরাইলের ওপর কতটুকু নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র ধরে রাখবে। তবে, কোন কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সর্বাত্মক না হলেও দীর্ঘমেয়াদি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে দুই দেশ।

 

ইরানের ওপর যে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল, তা নজিরবিহীন। শুরু থেকেই ইরানের দৃঢ় বিশ্বাস, যুক্তরাষ্ট্রের মদদেই এই হামলা চালিয়েছে তারা। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তাদের কাছে হামলার কোন খবর ছিলো না। তবে ইরান বলেছে, ইসরাইলের হামলা মানেই এর পেছনে সায় থাকবে আমেরিকার।

 

তবে, চলমান সংঘাত নিয়ন্ত্রণ হারালে ইরাক, গালফসহ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি ও কূটনৈতিক মিশনে হামলা চালাতে পারে তেহরান। এরিমধ্য সেই হুঁশিয়ারিও দিয়েছে দেশটি। এতে, ইসরাইল বা মধ্যপ্রাচ্যে কোনও মার্কিন বা পশ্চিমা দেশের কেউ ইরানের হামলায় মারা গেলে, এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

 

এছাড়া, ইসরাইলের সাথে এই সংঘর্ষের জেরে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলো মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে যেতে পারে। এই দেশগুলোতে মার্কিন বিমানঘাঁটি যেমন রয়েছে তেমনি কয়েকটি দেশ গতবছর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে ইসরাইলকে গোপনে সাহায্য করেছে বলেও শোনা যায়।

 

যদি ইরান এই দেশগুলোতে হামলা চালিয়ে বসে, তবে নিরাপত্তার জন্য তারাই যুদ্ধবিমান নিয়ে মার্কিন বাহিনীকে আসার জন্য আহ্বান জানাবে।

 

এই সংঘাত আরও বৃদ্ধি পেলে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে আরও বেপরোয়া হতে পারে ইরান। দেশটির কাছে কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধকৃত চারশ’ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে। শনিবার হামলার পর এক ইসরাইলি এক কর্মী দাবি করেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই অন্তত ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করে ফেলতো ইরান।

 

ইরান যদি অস্তিত্ব রক্ষার জন্য একমাত্র উপায় হিসেবে পারমাণবিক বোমা বানানোই সমাধান মনে করে, সেক্ষেত্রে ইরানের পারমাণবিক শক্তি হয়ে ওঠার পেছনে অন্যতম প্রভাবক হবে ১৩ জুনের ইসরাইলি হামলা। ইসরাইলি হামলার লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা গুড়িয়ে দেয়া। তবে, সেটা নাহলে নিয়মিতভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে যেতে পারে ইসরাইল, যেন তারা কখনই পারমাণবিক অবকাঠামো পুরোপুরি গড়ে তুলতে না পারে।