ঢাকা , শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজও তালাবদ্ধ ডিএসসিসির নগর ভবন, ইশরাক সমর্থকদের অবস্থান

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটঃ ০৪:১৮:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ জুন ২০২৫
  • / ৮৩২ বার পঠিত

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) মেয়র হিসাবে শপথ পড়ানোর দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসাবে আজও গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তার সমর্থকরা।

 

আজ রোববার (২২ জুন) নগর ভবনের সামনের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয়ে কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে ইশরাকের সমর্থকদের। ডিএসসিসি ভবনের সামনে জড়ো হয়ে শপথের পক্ষে নানা স্লোগান দেন তারা।

 

যদিও গত কয়েকদিন ধরে ৭০টি ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক, ওয়ার্ড সচিবে, এডিস মশা ও করোনা ভাইরাস দক্ষিণ সিটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন।

 

গত ১৫ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত নগর ভবন থেকে দেওয়া সব নাগরিক সেবা বন্ধ ছিল। জরুরি প্রয়োজনে এসে এসময় সেবাপ্রার্থী নাগরিকদের বারবার ঘুরে যেতে হয়েছে। সেসময় দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ইশরাকপন্থি কর্মচারীরা নগরভবনের মূল ফটক আটকে রাখার পাশাপাশি প্রতিটি বিভাগে তালা ঝুলিয়ে সেবা কার্যক্রম বন্ধ করে রাখে। পরে ঈদের বিরতির পর গত ১৫ জুন থেকে ইশরাকের অনুসারীরা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগরভবনে একত্রিত হয়ে ফের অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে শুরু করে।

 

যদিও সেসময় নগরভবনে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে জানিয়ে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন বলেছিলেন, জন্মনিবন্ধন সনদসহ দৈনন্দিন জরুরি সেবা চালু থাকবে, অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা কর্মকর্তারা অফিস করতে পারবেন না। প্রধান ফটকের তালা খোলা হবে না, এটা আন্দোলনের একটা প্রতীক। জনগণের দৈনন্দিন সেবা, আমাদের তত্ত্বাবধানে চালু থাকবে।

 

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয়। সেসময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ফল বাতিল চেয়ে ২০২০ সালের ৩ মার্চ মামলা করেন ইশরাক।

 

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ২৭ মার্চ ঢাকার নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল সেই ফল বাতিল করে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করেন।

 

এরপর ২৭ এপ্রিল ইশরাককে ডিএসসিসি মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তাকে যেন শপথ পড়ানো না হয় সেজন্য গত ১৪ মে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে গত ১৫ মে থেকে আন্দোলন নামেন ইশরাক সমর্থকরা। তাদের আন্দোলনের কারণে ডিএসসিসি নগর ভবন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। কিন্তু আইনি জটিলতার কথা বলে ইশরাকের শপথের আয়োজন থেকে বিরত থাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

 

এরপর এ রিট মামলার ওপর কয়েক দফা শুনানির পর তা খারিজ করে আদেশ দেয় হাইকোর্টের বেঞ্চ।

অর্থআদালতডটকম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার হতে বিরত থাকুন।

আজও তালাবদ্ধ ডিএসসিসির নগর ভবন, ইশরাক সমর্থকদের অবস্থান

আপডেটঃ ০৪:১৮:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ জুন ২০২৫

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) মেয়র হিসাবে শপথ পড়ানোর দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসাবে আজও গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তার সমর্থকরা।

 

আজ রোববার (২২ জুন) নগর ভবনের সামনের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয়ে কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে ইশরাকের সমর্থকদের। ডিএসসিসি ভবনের সামনে জড়ো হয়ে শপথের পক্ষে নানা স্লোগান দেন তারা।

 

যদিও গত কয়েকদিন ধরে ৭০টি ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক, ওয়ার্ড সচিবে, এডিস মশা ও করোনা ভাইরাস দক্ষিণ সিটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন।

 

গত ১৫ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত নগর ভবন থেকে দেওয়া সব নাগরিক সেবা বন্ধ ছিল। জরুরি প্রয়োজনে এসে এসময় সেবাপ্রার্থী নাগরিকদের বারবার ঘুরে যেতে হয়েছে। সেসময় দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ইশরাকপন্থি কর্মচারীরা নগরভবনের মূল ফটক আটকে রাখার পাশাপাশি প্রতিটি বিভাগে তালা ঝুলিয়ে সেবা কার্যক্রম বন্ধ করে রাখে। পরে ঈদের বিরতির পর গত ১৫ জুন থেকে ইশরাকের অনুসারীরা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগরভবনে একত্রিত হয়ে ফের অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে শুরু করে।

 

যদিও সেসময় নগরভবনে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে জানিয়ে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন বলেছিলেন, জন্মনিবন্ধন সনদসহ দৈনন্দিন জরুরি সেবা চালু থাকবে, অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা কর্মকর্তারা অফিস করতে পারবেন না। প্রধান ফটকের তালা খোলা হবে না, এটা আন্দোলনের একটা প্রতীক। জনগণের দৈনন্দিন সেবা, আমাদের তত্ত্বাবধানে চালু থাকবে।

 

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয়। সেসময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ফল বাতিল চেয়ে ২০২০ সালের ৩ মার্চ মামলা করেন ইশরাক।

 

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ২৭ মার্চ ঢাকার নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল সেই ফল বাতিল করে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করেন।

 

এরপর ২৭ এপ্রিল ইশরাককে ডিএসসিসি মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তাকে যেন শপথ পড়ানো না হয় সেজন্য গত ১৪ মে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে গত ১৫ মে থেকে আন্দোলন নামেন ইশরাক সমর্থকরা। তাদের আন্দোলনের কারণে ডিএসসিসি নগর ভবন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। কিন্তু আইনি জটিলতার কথা বলে ইশরাকের শপথের আয়োজন থেকে বিরত থাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

 

এরপর এ রিট মামলার ওপর কয়েক দফা শুনানির পর তা খারিজ করে আদেশ দেয় হাইকোর্টের বেঞ্চ।