ঢাকা , বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জে চার দিনের মাথায় ৪ হত্যা মামলা, আসামি ৬ হাজার

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটঃ ০৮:০২:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫
  • / ৭৮৫ বার পঠিত

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা ও সমাবেশ ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় সেদিনই চারজন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে প্রথম ৫ মৃত্যুর ঘটনার ৪ দিনের মাথায় ৪টি হত্যা মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় কারও নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামা মোট ৫ হাজার ৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাগুলোতে দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ১৮৬, ১৫৩, ৩০৭, ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

আজ রোববার (২০ জুলাই) হত্যা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) আবদুল্লাহ আল মামুন। সদর থানার চারজন উপপরিদর্শক (এসআই) বাদী হয়ে এই মামলাগুলো করেন।

 

গোপালগঞ্জে সংঘাত-সংঘর্ষে এ পর্যন্ত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন- গোপালগঞ্জ পৌরসভার উদয়ন রোডের বাসিন্দা দীপ্ত সাহা (২৫), টুঙ্গিপাড়া উপজেলার সোহেল রানা মোল্লা (৩৫), কোটালীপাড়া উপজেলার বান্ধাবাড়ি ইউনিয়নের হরিণাহাটি গ্রামের রমজান কাজী (১৮), ভেড়ার বাজারের ব্যাপারীপাড়া এলাকার ইমন তালুকদার (১৮) এবং থানাপাড়া এলাকার রমজান মুন্সী (৩৫)।

 

নিহত পাঁচজনের মধ্যে চারজনের ঘটনার বিষয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোহেল রানা মোল্লা হত্যা মামলার বাদী হয়েছেন এসআই আবুল কালাম আজাদ, দীপ্ত সাহার হত্যা মামলার বাদী এসআই শামীম হোসেন এবং ইমন তালুকদারের হত্যা মামলার বাদী এসআই শেখ মিজানুর রহমান। এই তিনটি মামলায় প্রতিটিতে অজ্ঞাতনামা প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে, রমজান কাজী হত্যা মামলার বাদী এসআই মো. আইয়ুব আলী, যেখানে অজ্ঞাতনামা ৯০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে রমজান মুন্সীর মৃত্যু সংক্রান্ত এখনো কোনো মামলা হয়নি।

 

সংঘর্ষের ঘটনায় গত বুধবার থেকে রোববার (আজ) দুপুর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ৩২১ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৫ জনকে। থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সদর থানায় নতুন করে ৯ জনসহ মোট ১০১ জন, কাশিয়ানীতে ৭৭ জন, মুকসুদপুরে ৮৮ জন, টুঙ্গিপাড়ায় ২৭ জন এবং কোটালীপাড়ায় নতুন করে ৬ জনসহ মোট ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির মো. সাজেদুর রহমান বলেন, পাঁচজন নিহতের ঘটনায় চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আরেকটি মামলা রাতে হতে পারে। তিনটি মামলায় আসামি করা হয়েছে ১৪০০ থেকে ১৫০০ জন করে। আরেকটি মামলায় আসামি করা হয়েছে ৮০০ থেকে ৯০০ জনকে।

 

উল্লেখ্য, গত বুধবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা হামলা চালান। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে পাঁচজনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন অর্ধশতাধিক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহম্মদ কামরুজ্জামান প্রথমে ১৪৪ ধারা জারি করেন। পরে রাতে জারি করা হয় কারফিউ, যা পরবর্তীতে একাধিকবার সময় বাড়িয়ে কার্যকর রাখা হয়।

অর্থআদালতডটকম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার হতে বিরত থাকুন।

গোপালগঞ্জে চার দিনের মাথায় ৪ হত্যা মামলা, আসামি ৬ হাজার

আপডেটঃ ০৮:০২:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা ও সমাবেশ ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় সেদিনই চারজন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে প্রথম ৫ মৃত্যুর ঘটনার ৪ দিনের মাথায় ৪টি হত্যা মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় কারও নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামা মোট ৫ হাজার ৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাগুলোতে দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ১৮৬, ১৫৩, ৩০৭, ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

আজ রোববার (২০ জুলাই) হত্যা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) আবদুল্লাহ আল মামুন। সদর থানার চারজন উপপরিদর্শক (এসআই) বাদী হয়ে এই মামলাগুলো করেন।

 

গোপালগঞ্জে সংঘাত-সংঘর্ষে এ পর্যন্ত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন- গোপালগঞ্জ পৌরসভার উদয়ন রোডের বাসিন্দা দীপ্ত সাহা (২৫), টুঙ্গিপাড়া উপজেলার সোহেল রানা মোল্লা (৩৫), কোটালীপাড়া উপজেলার বান্ধাবাড়ি ইউনিয়নের হরিণাহাটি গ্রামের রমজান কাজী (১৮), ভেড়ার বাজারের ব্যাপারীপাড়া এলাকার ইমন তালুকদার (১৮) এবং থানাপাড়া এলাকার রমজান মুন্সী (৩৫)।

 

নিহত পাঁচজনের মধ্যে চারজনের ঘটনার বিষয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোহেল রানা মোল্লা হত্যা মামলার বাদী হয়েছেন এসআই আবুল কালাম আজাদ, দীপ্ত সাহার হত্যা মামলার বাদী এসআই শামীম হোসেন এবং ইমন তালুকদারের হত্যা মামলার বাদী এসআই শেখ মিজানুর রহমান। এই তিনটি মামলায় প্রতিটিতে অজ্ঞাতনামা প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে, রমজান কাজী হত্যা মামলার বাদী এসআই মো. আইয়ুব আলী, যেখানে অজ্ঞাতনামা ৯০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে রমজান মুন্সীর মৃত্যু সংক্রান্ত এখনো কোনো মামলা হয়নি।

 

সংঘর্ষের ঘটনায় গত বুধবার থেকে রোববার (আজ) দুপুর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ৩২১ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৫ জনকে। থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সদর থানায় নতুন করে ৯ জনসহ মোট ১০১ জন, কাশিয়ানীতে ৭৭ জন, মুকসুদপুরে ৮৮ জন, টুঙ্গিপাড়ায় ২৭ জন এবং কোটালীপাড়ায় নতুন করে ৬ জনসহ মোট ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির মো. সাজেদুর রহমান বলেন, পাঁচজন নিহতের ঘটনায় চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আরেকটি মামলা রাতে হতে পারে। তিনটি মামলায় আসামি করা হয়েছে ১৪০০ থেকে ১৫০০ জন করে। আরেকটি মামলায় আসামি করা হয়েছে ৮০০ থেকে ৯০০ জনকে।

 

উল্লেখ্য, গত বুধবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা হামলা চালান। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে পাঁচজনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন অর্ধশতাধিক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহম্মদ কামরুজ্জামান প্রথমে ১৪৪ ধারা জারি করেন। পরে রাতে জারি করা হয় কারফিউ, যা পরবর্তীতে একাধিকবার সময় বাড়িয়ে কার্যকর রাখা হয়।